জ্বালানি নিয়ে উদ্বেগ নয়, নিশ্চয়তার বার্তা—সংকট নেই বললেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

বর্তমানে দেশে কোনো ধরনের জ্বালানি সংকট নেই—এমন আশ্বাসই দিয়েছেন শামা ওবায়েদ ইসলাম (Shama Obaid Islam), যিনি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে জানান, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার মধ্যেও সরকার জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখতে এবং বিদেশে থাকা বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

সোমবার (৩০ মার্চ) জাতীয় সংসদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী (Bangladesh Jamaat-e-Islami)-এর সদস্য মীর আহমেদ বিন কাশেম (Mir Ahmed Bin Kashem)-এর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন। বক্তব্যে তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উৎস থেকে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে, যাতে দেশের সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো ধরনের বিঘ্ন না ঘটে।

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, শুধু মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভর না করে সরকার জ্বালানি আমদানির উৎস বহুমুখীকরণের দিকে এগোচ্ছে। বিকল্প সরবরাহ চ্যানেল খুঁজে বের করার কাজও চলছে, যাতে দীর্ঘমেয়াদে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হয়। তার ভাষায়, “এই মুহূর্তে বাংলাদেশে কোনো জ্বালানি সংকট নেই”—এটি শুধু বক্তব্য নয়, বরং সরকারের প্রস্তুতি ও পরিকল্পনার প্রতিফলন।

তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব বৈঠকে বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখার কৌশল নির্ধারণ করা হয়েছে এবং খাতটির স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

জ্বালানির পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গেও গুরুত্বারোপ করেন প্রতিমন্ত্রী। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করছে। তিনি সংসদকে জানান, সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলো সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রবাসীদের সহায়তায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

সাম্প্রতিক ঘটনাবলির প্রসঙ্গে তিনি জানান, কয়েকজন বাংলাদেশি নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে অন্যদের উদ্ধার করে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বিশেষ করে ইরান (Iran)-এর রাজধানী তেহরান (Tehran) থেকে সরকারের সহায়তায় একটি চার্টার্ড ফ্লাইটে মোট ১৮৬ জন বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

পরিস্থিতির ক্রমাগত পরিবর্তনের মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোর মাধ্যমে সমন্বিত প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে থাকা নাগরিকরা প্রয়োজনীয় সহায়তা পান।

প্রতিমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার সংশ্লিষ্ট দেশ ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। তার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়, বৈশ্বিক পরিস্থিতি যতই জটিল হোক না কেন, সরকারের লক্ষ্য একটাই—যেখানেই বাংলাদেশিরা থাকুক, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দেশে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ বজায় রাখা।

তিনি আরও বলেন, সরকার সতর্কতার সঙ্গে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং সম্ভাব্য যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছে, যাতে জ্বালানি খাত ও প্রবাসী কল্যাণ—দুই ক্ষেত্রেই স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *