স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, জুলাই জাতীয় সনদে নির্ধারিত বিধান অনুযায়ী দেশে জুলাই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের জন্য আইনি ও সাংবিধানিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি স্পষ্ট করে জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে সংসদে উপস্থাপন করা হয় এবং এখন সেটিকে আনুষ্ঠানিক আইনে পরিণত করার বিষয়ে সরকারের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত রয়েছে।
সংসদে এনসিপি দলের সদস্য আখতার হোসেন ও জয়নুল আবদিন ফারুক-এর প্রশ্নের জবাবে তিনি এই অবস্থান তুলে ধরেন। আলোচনার এক পর্যায়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যারা দখলদার বাহিনীর মতো আচরণ করে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালিয়েছিল এবং সহিংস পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল, তারা শেষ পর্যন্ত জনগণের প্রতিরোধের মুখে পড়ে। এই সংঘর্ষে কেউ নি’\হত হন, আবার কেউ গু’\লি’\বি’\দ্ধ বা আহত হন—যা তিনি ‘যুদ্ধক্ষেত্রের সিদ্ধান্ত’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।
মন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন, এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে জুলাইয়ের আন্দোলনকারীদের—যাদের তিনি ‘যোদ্ধা’ হিসেবে উল্লেখ করেন—আইনি সুরক্ষার আওতায় আনা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি জানান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার কয়েকজন ঘনিষ্ঠ সহযোগীর বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে দুটি রায় ঘোষণা করা হয়েছে। এই সহযোগীদের মধ্যে একজন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও রয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। উল্লেখযোগ্যভাবে, এসব বিচারিক কার্যক্রম সরাসরি সম্প্রচার করা হয়েছে, যা বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার দিকটি তুলে ধরে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জোর দিয়ে বলেন, দেশের বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করবে এবং সরকার কোনোভাবেই বিচারিক প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করবে না। তার ভাষায়, ‘ইনশাআল্লাহ, এ দেশে সংঘটিত গু’\ম, খু’\ন, হ’\ত্যা ও গণহ’\ত্যার প্রতিটি ঘটনার বিচার নিশ্চিত করা হবে।’
প্রশ্নোত্তর পর্বে রংপুর থেকে নির্বাচিত এনসিপির সংসদ সদস্য আখতার হোসেন গত ১৬ বছরে পুলিশের অসদাচরণ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, বিশেষ করে জুলাই মাসে কিছু পুলিশ কর্মকর্তা আইনের সীমা অতিক্রম করে নিজেরাই হ’\ত্যা ও নির্যাতনের মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।
তিনি জানতে চান, বিচারিক প্রক্রিয়ার পাশাপাশি এ ধরনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে কি না—যা নিয়ে সংসদে নতুন করে আলোচনা ও জবাবদিহিতার প্রশ্ন সামনে আসে।


