সরকারের পক্ষ থেকে ধারাবাহিকভাবে জানানো হচ্ছে, দেশে কোনো ধরনের জ্বালানি সংকট নেই। তবুও বন্দর নগরী চট্টগ্রামের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে ভোর থেকেই চোখে পড়েছে দীর্ঘ সারি, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি ঘিরে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে আশঙ্কাই মূলত এই পরিস্থিতির পেছনে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। অনেকেই প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত জ্বালানি সংগ্রহে ঝুঁকছেন। ফলে মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কারসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে।
ফিলিং স্টেশনগুলোর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাস্তবে বড় কোনো ঘাটতি না থাকলেও গ্রাহকদের আচরণ পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে। অনেক চালক প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তেল নিচ্ছেন, আবার কেউ কেউ একাধিক স্টেশন ঘুরে বারবার জ্বালানি সংগ্রহ করছেন। এতে করে দ্রুত মজুত শেষ হয়ে যাচ্ছে এবং একটি কৃত্রিম সংকটের আবহ তৈরি হচ্ছে।
অন্যদিকে সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে চট্টগ্রাম বন্দর (Chittagong Port)-এ নিয়মিত জ্বালানিবাহী জাহাজ ভিড়ছে। মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকে এখন পর্যন্ত এলপিজি, এলএনজি, ক্রুড অয়েলসহ বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি নিয়ে অন্তত ৩৩টি জাহাজ বন্দরে এসেছে।
সর্বশেষ মঙ্গলবার মালয়েশিয়া থেকে ২৭ হাজার ৩০০ টন পরিশোধিত ডিজেল নিয়ে ‘পিভিটি সোলানা’ নামের একটি ফুয়েল ট্যাংকার বন্দরের বহির্নোঙরে এসে পৌঁছেছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, আগামী ৪ এপ্রিলের মধ্যে আরও ছয়টি জাহাজ বন্দরে ভিড়বে। এর মধ্যে তিনটিতে এলএনজি, দুটিতে গ্যাস অয়েল এবং একটিতে এলপিজি থাকবে।
এই ধারাবাহিক সরবরাহ অব্যাহত থাকলে খুব শিগগিরই নগরীর ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানির প্রাপ্যতা স্বাভাবিক হবে এবং বর্তমানে যে দীর্ঘ লাইনের চাপ তৈরি হয়েছে, তা কমে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।


