ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, ইরান ইস্যুতে বাংলাদেশ সরকারের সাম্প্রতিক বিবৃতি তেহরানকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি। বরং এতে হতাশা ও কষ্ট পেয়েছে ইরান। তাদের প্রত্যাশা ছিল, আগ্রাসী শক্তির ভূমিকার বিষয়ে বাংলাদেশ আরও পরিষ্কার ও দৃঢ় অবস্থান নেবে।
বুধবার (১ এপ্রিল) ঢাকায় ইরান দূতাবাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিকে ঘিরেই এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়, যেখানে ইরানের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন রাষ্ট্রদূত।
রাষ্ট্রদূত বলেন, “ইরান ইস্যুতে বাংলাদেশ (Bangladesh) সরকারের বিবৃতিতে আমরা কষ্ট পেয়েছি। এটি আরও স্পষ্ট হওয়া উচিত ছিল। বাংলাদেশ একটি মুসলিম দেশ—ভাই রাষ্ট্র হিসেবে আমরা আশা করেছিলাম, ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের নিন্দা জানাবে। কিন্তু সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।”
তিনি আরও যোগ করেন, এই অবস্থান ইরানের জন্য হতাশাজনক। কারণ, পারস্পরিক সম্পর্ক ও ধর্মীয় বন্ধনের জায়গা থেকে তারা ভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া প্রত্যাশা করেছিল।
বাংলাদেশের এই অবস্থান নিয়ে ইরান কোনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত জানান, আপাতত কোনো চিঠি দেওয়ার পরিকল্পনা নেই। তবে সুযোগ হলে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতে বিষয়টি তুলে ধরা হবে।
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের ভূমিকার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, জাতিসংঘ (United Nations) ও ওআইসি (OIC)-এর সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ ইরানের ওপর আগ্রাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে পারত। তার মতে, এমন অবস্থান নেওয়া কেবল কূটনৈতিক নয়, নৈতিক দায়িত্বও ছিল।
তিনি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন, রাশিয়া (Russia) ও চীন (China)—যারা মুসলিম দেশ নয়—তারাও এই ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে। সেই প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের নীরবতা বা অস্পষ্ট অবস্থান আরও বেশি চোখে পড়ছে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।
ইরানের এই প্রতিক্রিয়া মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই বাংলাদেশ-ইরান সম্পর্কের সূক্ষ্ম ভারসাম্যের দিকটি নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে।


