জলবায়ু সংকটে টেকসই সমাধানের খোঁজে ঢাকায় আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ কোর্সের সূচনা

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি যখন বিশ্বজুড়ে নতুন বাস্তবতা হয়ে উঠছে, ঠিক তখনই গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর নিজস্ব অভিজ্ঞতা ও বাস্তবতার আলোকে কার্যকর সমাধান খুঁজতে ঢাকায় শুরু হচ্ছে একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ কোর্স। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগে ‘এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ক্লাইমেট অ্যাকশন’ শীর্ষক এই কোর্সটি নতুন প্রজন্মের মধ্যে জলবায়ু নেতৃত্ব গড়ে তোলার লক্ষ্যে পরিকল্পিত।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিকাল ৩টায় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় (BRAC University)-এর উপাচার্যের সম্মেলন কক্ষে কোর্সটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন উপলক্ষে একটি বিশেষ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। কোর্সটি যৌথভাবে আয়োজন করছে বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস), সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ (সিথ্রিইআর) এবং মিশন গ্রিন বাংলাদেশ। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহায়তা দিচ্ছে ইউনিভার্সিটি অব ডান্ডি (University of Dundee)-এর বিঙ্কস ইনস্টিটিউট ফর সাসটেইনেবিলিটি, মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটি (Michigan State University)-এর এশিয়া হাব, নানজিং এগ্রিকালচারাল ইউনিভার্সিটি (Nanjing Agricultural University) এবং স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (Stamford University Bangladesh)।

৩ এপ্রিল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্লাস শুরু হওয়া এই কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তন এখন আর কেবল তাত্ত্বিক আলোচনার বিষয় নয়, এটি আমাদের অস্তিত্বের লড়াই। উন্নত বিশ্বের মডেল দিয়ে সবসময় আমাদের দেশের সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই কোর্সের মাধ্যমে এমন এক প্রজন্ম তৈরি করতে চাওয়া হচ্ছে, যারা বৈশ্বিক বাস্তবতা বুঝে স্থানীয়ভাবে কার্যকর সমাধান দিতে সক্ষম হবে।

স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শরীফ এন. আস-সাবের তার বক্তব্যে একাডেমিক জ্ঞান ও মাঠপর্যায়ের গবেষণার সমন্বয়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের গবেষক ও পেশাদারদের অংশগ্রহণ জলবায়ু কূটনীতি এবং প্রযুক্তিগত জ্ঞান বিনিময়ে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।” আন্তর্জাতিক এই উদ্যোগে যুক্ত হতে পেরে গর্বের কথাও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. ডেভ ডল্যান্ড শিক্ষা ও বাস্তব প্রয়োগের মধ্যে ব্যবধান দূর করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তার ভাষায়, “পরিবেশগত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হলে শিক্ষা ও কর্মপরিকল্পনা একসাথে এগোতে হবে। এই আন্তর্জাতিক সহযোগিতা শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক মানদণ্ডে দক্ষ করে তুলবে।”

দুই মাসব্যাপী এই হাইব্রিড কোর্সে বাংলাদেশ ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন ও মালয়েশিয়ার শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞরা মোট ১৮টি লেকচার প্রদান করবেন। উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর জন্য কার্যকর জলবায়ু নেতৃত্ব তৈরি করাই এর মূল লক্ষ্য।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার, রউফা খানম, আহসান রনি, মোঃ নাছির আহম্মেদ পাটোয়ারী এবং মারজিয়াত রহমান। আন্তর্জাতিক অংশীদারদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন ড. নন্দন মুখার্জি, জেনিফার ওয়ারগো এবং ড. লিউ ইউটাও।

এই কোর্সের আন্তর্জাতিক মেন্টররা অনলাইনে ক্লাস নেবেন, আর অফলাইন ক্লাসগুলো অনুষ্ঠিত হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (University of Dhaka), বুয়েট, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি, ইউল্যাব এবং স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে। আগামী ১২ জুন পর্যন্ত চলবে এই কোর্সের কার্যক্রম, এরপর জুন থেকেই শুরু হবে এর দ্বিতীয় ব্যাচ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *