চলমান দক্ষতা মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার মধ্যেই পদত্যাগ করেছেন দুইজন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল। তারা হলেন আহমদ মুসাননা চৌধুরী এবং মুহা. মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন, যাদের পদত্যাগকে ঘিরে আইন অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার তারা রাষ্ট্রপতি বরাবর পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন। এই পদত্যাগের ঘটনা এমন এক সময় ঘটলো, যখন সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ডেপুটি ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলদের কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন শুরু করেছেন।
মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া এই মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার প্রথম দিনে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলদের মূল্যায়ন করা হয়। এরপর বুধবার ও বৃহস্পতিবার সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলদের মূল্যায়ন অনুষ্ঠিত হয়। ঠিক এই সময়ের মধ্যেই দুই কর্মকর্তার পদত্যাগ ঘটনাটিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।
পদত্যাগের কারণ হিসেবে ব্যক্তিগত ও পেশাগত বিষয়গুলো সামনে এসেছে। মুহা. মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন তার পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেছেন, ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে তিনি দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে আসছিলেন। তবে বর্তমানে ব্যক্তিগত কারণে এই দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়া তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।
অন্যদিকে, আহমদ মুসাননা চৌধুরী জানিয়েছেন, তার মূল্যায়নের দিন নির্ধারিত থাকলেও তিনি তাতে অংশ নেননি। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আইন পেশায় পূর্ণ মনোযোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
উল্লেখযোগ্যভাবে, মুহা. মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন জাতীয় নাগরিক পার্টি (National Citizens Party – NCP)–এর কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একইভাবে আহমদ মুসাননা চৌধুরীকেও দলটির ঘনিষ্ঠ হিসেবে দেখা হয়। ফলে এই পদত্যাগকে ঘিরে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়টিও আলোচনায় উঠে এসেছে।
দক্ষতা মূল্যায়নের মতো একটি সংবেদনশীল প্রক্রিয়ার মাঝেই এই পদত্যাগ, ভবিষ্যতে আইন ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ভেতরে কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে—সেটিই এখন পর্যবেক্ষণের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।


