নির্ধারিত সময়েই তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তরের অঙ্গীকার

বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে তামাক নিয়ন্ত্রণকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে—এমন প্রেক্ষাপটে তামাক নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫-কে কোনো ধরনের পরিবর্তন ছাড়াই দ্রুত আইনে রূপান্তরের আশ্বাস দিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি (Nurul Islam Moni)। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, এই অধ্যাদেশটি কার্যকর আইন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাবেন।

স্বাস্থ্য সুরক্ষার প্রশ্নে ধূমপান পরিহারের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, শুধু নিজে ধূমপান থেকে বিরত থাকাই যথেষ্ট নয়—তামাকজাত সব পণ্য বর্জন করা এবং আশেপাশের মানুষদেরও তা থেকে দূরে রাখার সামাজিক দায়িত্ব রয়েছে সবার।

শনিবার (৪ এপ্রিল) সিরডাপ ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারে নারী স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে সামনে রেখে ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন’ শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা শীর্ষক একটি নীতি-সংলাপ আয়োজন করে উবিনীগ (UBINIG) এবং তাবিনাজ (তামাক বিরোধী নারী জোট)। এই আলোচনায় বক্তারা একযোগে দাবি জানান, ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫’-কে কোনো প্রকার সংশোধন ছাড়াই দ্রুত আইনে রূপান্তর করতে হবে, যাতে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন আরও কার্যকর ও সময়োপযোগী হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন নুরুল ইসলাম মনি। স্বাগত বক্তব্যে উবিনীগের পরিচালক সীমা দাস সীমু নীতিগত উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংস্থাটির টোব্যাকো কন্ট্রোল প্রজেক্টের কো-অর্ডিনেটর হাসানুল হাসিব আল গালিব।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন (National Heart Foundation)-এর রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী (Dr. Sohel Reza Chowdhury) বলেন, তামাক কোম্পানিগুলো নানা কৌশলে তরুণদের লক্ষ্য করে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে, যেখানে ই-সিগারেট একটি বড় হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। এটি তরুণ সমাজকে ধীরে ধীরে ক্ষতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ই-সিগারেট নিষিদ্ধকরণ ও তামাকজাত পণ্যের প্রদর্শন বন্ধের বিধান বহাল রেখেই অধ্যাদেশটি পাস করা জরুরি।

এদিকে সীমা দাস সীমু তার বক্তব্যে তুলে ধরেন নারীদের ওপর তামাকের ভয়াবহ প্রভাব। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কর্মক্ষেত্রে ১৯ শতাংশ, গণপরিবহনে ৩৮ শতাংশ এবং বাড়িতে ৩৭ শতাংশ নারী পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হন। গর্ভাবস্থায় তামাক সেবন বা পরোক্ষ ধূমপান গর্ভস্থ সন্তানের অপরিণত জন্ম এবং কম ওজনের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়—যা একটি গুরুতর জনস্বাস্থ্য উদ্বেগ।

অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট (Bangladesh Jute Research Institute)-এর সাবেক বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এম. এ. সোবহান বলেন, তামাক কোম্পানিগুলো নতুন নতুন ফ্লেভারের মাধ্যমে ই-সিগারেট বাজারজাত করে তরুণদের আকৃষ্ট করছে। এই বাস্তবতায় ই-সিগারেটকে তামাক পণ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে অধ্যাদেশটিকে আইনে রূপান্তর করা হলে তা একটি যুগোপযোগী ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।

আলোচনার সারাংশে নারী, শিশু ও তরুণ প্রজন্মের স্বাস্থ্য সুরক্ষার স্বার্থে সংশোধিত অধ্যাদেশটি অবিলম্বে জাতীয় সংসদে পাস করে পূর্ণাঙ্গ আইনে পরিণত করার জন্য জোরালো আহ্বান জানানো হয়। এই নীতি-সংলাপে তাবিনাজের সদস্য, কৃষক ফেডারেশনের প্রতিনিধি, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ এবং সাংবাদিকরা অংশগ্রহণ করেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *