ইস্টার সানডে বা পবিত্র রবিবার খ্রিস্টীয় ক্যালেন্ডারের অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব হিসেবে বিশ্বজুড়ে পালিত হয়। খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরা এই দিনটিকে উদযাপন করেন মৃ’\ত্যুর বিরুদ্ধে যিশু খ্রিস্ট (Jesus Christ)-এর বিজয়ের স্মরণে। বিশ্বাসীদের কাছে এটি শুধুমাত্র একটি উৎসব নয়, বরং পুরনো জীবনের অবসান এবং নতুন জীবনের সূচনার প্রতীক।
খ্রিস্টানদের বৃহত্তম উৎসব বড়দিন বা ক্রিসমাসের পরেই গুরুত্বের দিক থেকে আসে ইস্টার। গুড ফ্রাইডের পরবর্তী রবিবারই পালিত হয় এই পবিত্র দিনটি। খ্রিস্টান ধর্মমতে, এই দিনেই ধর্মের প্রবর্তক যিশু খ্রিস্ট মৃ’\ত্যু থেকে পুনরুত্থান করেন। গুড ফ্রাইডেতে তাকে ক্রুশবিদ্ধ করে হ’\ত্যা করা হয়েছিল বলে বিশ্বাস করা হয়। এরপর তৃতীয় দিনে, অর্থাৎ রবিবারে, তিনি আবার জীবিত হয়ে মানুষের মাঝে ফিরে আসেন—মৃ’\ত্যুকে জয় করে।
এই পুনরুত্থানই খ্রিস্টীয় বিশ্বাসের মূলভিত্তি। যিশুর আত্মত্যাগ এবং তার গৌরবময় প্রত্যাবর্তন মানবজাতির জন্য আশা, ত্যাগ এবং সত্যের পথে চলার এক শক্তিশালী বার্তা বহন করে। মানুষের কল্যাণে নিজের জীবন উৎসর্গ করার মধ্যেই নিহিত আছে ইস্টার সানডের প্রকৃত তাৎপর্য।
ইস্টার উপলক্ষে বিশ্বব্যাপী খ্রিস্টানরা কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান, প্রার্থনা এবং আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দিনটি পালন করেন। তবে এই উৎসবের দিনক্ষণ নিয়ে অতীতে নানা মতভেদ ছিল। প্রাথমিকভাবে ‘স্প্রিং ইকুইনক্স’ বা মহাবিষুবের সময় এই উৎসব উদযাপন করা হতো।
যিশুর ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার বছর নিয়েও ঐতিহাসিকদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে। একাধিক মত অনুসারে ৩৩ খ্রিস্টাব্দে এই ঘটনা ঘটে। তবে বিশিষ্ট বিজ্ঞানী স্যার আইজাক নিউটন (Sir Isaac Newton) জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে দাবি করেছিলেন, ঘটনাটি ৩৪ খ্রিস্টাব্দে সংঘটিত হয়।
বড়দিনের মতো নির্দিষ্ট কোনো তারিখে পালিত হয় না ইস্টার। সাধারণভাবে ধরা হয়, ২১ মার্চের পর আকাশে প্রথম পূর্ণিমা দেখা গেলে তার পরের রবিবারই ইস্টার হিসেবে নির্ধারিত হয়। গ্রেগরিয়ান ও জুলিয়ান ক্যালেন্ডারসহ বিভিন্ন পঞ্জিকার হিসাব মিলিয়ে এই তারিখ নির্ধারণ করা হয়, যা সাধারণত ৪ এপ্রিল থেকে ৮ মের মধ্যে পড়ে।
ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি ইস্টার সানডে ঘিরে রয়েছে নানা সাংস্কৃতিক প্রথাও। যিশুর পুনর্জন্মের প্রতীক হিসেবে ‘ইস্টার এগ’ বা রঙিন ডিম বিতরণ করা হয়। এগুলোতে রঙিন নকশা করা হয়, কখনো চকোলেট দিয়েও তৈরি করা হয়। শিশুদের আনন্দ বাড়াতে ‘ইস্টার বানি’ সেজে রাস্তায় ঘোরার রীতি রয়েছে, যারা ছোটদের হাতে তুলে দেয় মিষ্টি উপহার। এছাড়াও বিভিন্ন স্থানে ইস্টার এগকে ঘিরে নানা আনন্দঘন খেলাধুলার আয়োজন করা হয়, যা উৎসবটিকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।


