দেশের ভেতরের চাহিদা পূরণ নিশ্চিত করেই আন্তর্জাতিক বাজারে দেশীয় মাছ রফতানির লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু (Sultan Salauddin Tuku)। উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি মাছকে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে রায়পুর (Raipur) সরকারি মৎস্য প্রজনন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিদর্শনকালে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জেলেদের উদ্দেশে বলেন, নদীতে নির্ধারিত সময়—বিশেষ করে দুই মাস—ইলিশ আহরণ থেকে বিরত থাকলে দীর্ঘমেয়াদে তারাই লাভবান হবেন। বড় আকারের মাছ ধরতে পারলে বাজারে বেশি দাম পাওয়া যাবে, যা সরাসরি জেলেদের আয়ের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, “এই সম্পদ আপনাদেরই। নিয়ম মেনে চললে দেশের সম্পদ যেমন বাড়বে, তেমনি আপনাদের আয়ও বাড়বে।” তিনি জেলেদের নিয়ম মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে তাদের স্বার্থ রক্ষায় সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (Tarique Rahman) জেলেদের সার্বিক অবস্থার ওপর নজর রাখছেন। “আপনারা সবাই ফ্যামিলি কার্ড পাবেন, কেউ বঞ্চিত হবেন না,”—এমন আশ্বাস দিয়ে তিনি জানান, যেসব জেলে এখনো তালিকাভুক্ত হননি, তাদের নতুন তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
পূর্ববর্তী সরকারের সমালোচনা করে টুকু বলেন, তথাকথিত উন্নয়নের কথা বলা হলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার চিত্রই ফুটে উঠেছে। লক্ষ্মীপুরের মান্দারীর একটি মৎস্য খামারের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, নামমাত্র উন্নয়নের আড়ালে লুটপাট হয়েছে। বর্তমান সরকার জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।
সরকারি সহায়তা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রায় ৪০ হাজার জেলে পরিবারকে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। আগে যেখানে কেবল চাল বিতরণ করা হতো, এবার খাদ্য সহায়তার পরিমাণ ও পরিধি দুটোই বাড়ানো হয়েছে। এই কর্মসূচিতে প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকার ব্যয় হচ্ছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, “আমাদের সরকার মাত্র দেড় মাসের। তবুও আমরা নিশ্চিত করছি, কেউ যেন কম না পায়। দুই মাসের খাদ্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।” জেলেদের জন্য নতুন তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি, যাতে কোনো প্রকৃত উপকারভোগী বাদ না পড়ে।
দুর্নীতির বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, অতীতে খাদ্য সহায়তা বিতরণে অনিয়ম ছিল, তবে এবার সার্বক্ষণিক নজরদারির মাধ্যমে তা প্রতিরোধ করা হচ্ছে। “দুর্নীতিকে কখনোই প্রশ্রয় দেব না—এটাই আমাদের অঙ্গীকার,”—বলেই বক্তব্য শেষ করেন প্রতিমন্ত্রী।


