গাজীপুরে জাতীয় নাগরিক পার্টি (National Citizen Party) (এনসিপি)-এর আয়োজিত এক কর্মসূচিতে মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক সেনা কর্মকর্তা, আইনজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মোট ১৫৩২ জন নতুন সদস্য সংগঠনটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিয়েছেন। রবিবার (৫ এপ্রিল) গাজীপুরের একটি রেস্টুরেন্ট ‘আহনাফ কিচেন’-এ অনুষ্ঠিত এই সভা ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
সভায় উপস্থিত থেকে এনসিপির কেন্দ্রীয় সংগঠক ও গাজীপুর মহানগরীর সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল মুহিম (Abdullah Al Muhim) বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, “সারাদেশেই এনসিপির প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। বিভিন্ন পেশার মানুষ সংগঠনে যুক্ত হচ্ছেন, কারণ তারা এটিকে দেশের জন্য একটি নিরাপদ ও সম্ভাবনাময় রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখছেন।”
তিনি আরও জানান, নতুন সদস্যদের মধ্যে ১ হাজার ২৮ জন অনলাইনের মাধ্যমে ফরম পূরণ করে যোগ দিয়েছেন, আর বাকিরা সরাসরি ফরম পূরণের মাধ্যমে সদস্যপদ গ্রহণ করেছেন। এই পরিসংখ্যানই ইঙ্গিত দেয়, সংগঠনটি ডিজিটাল ও সরাসরি—দুই পথেই সমানভাবে বিস্তার ঘটাচ্ছে।
সংগঠনের অভ্যন্তরীণ কাঠামোতেও নতুনদের সক্রিয় সম্পৃক্ততার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যোগদানকারী সদস্যদের অনেকেই পর্যায়ক্রমে এনসিপি এবং এর অঙ্গসংগঠন—ছাত্রশক্তি, যুবশক্তি ও শ্রমিকশক্তির কার্যক্রমে যুক্ত হবেন। এতে করে সংগঠনের সাংগঠনিক শক্তি আরও বিস্তৃত ও কার্যকর হবে বলে মনে করছেন নেতারা।
নতুন সদস্যদের মধ্যে থাকা সাবেক সেনা কর্মকর্তা কামাল হোসেন (Kamal Hossain) নিজের যোগদানের কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, “তারুণ্যের শক্তি ও অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা থেকেই আমি এনসিপিতে যুক্ত হয়েছি।” তার এই মন্তব্যে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনার একটি ইঙ্গিতও মিলেছে।
অন্যদিকে আইনজীবী রাশেদুল ইসলাম রবি (Rashedul Islam Robi) বলেন, “গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে দেশের জন্য কাজ করার লক্ষ্য নিয়েই আমি এনসিপির সঙ্গে যুক্ত হয়েছি।” তার বক্তব্যে আদর্শিক অবস্থান ও রাজনৈতিক অঙ্গীকারের প্রতিফলন স্পষ্ট।
এই কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির নির্বাহী সদস্য ও শ্রমিকশক্তির প্রধান সংগঠক আরমান হোসাইন (Arman Hossain), কেন্দ্রীয় সংগঠক সাকিব শাহরিয়ারসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। তাদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে।
গাজীপুরে এই বড় আকারের সদস্য অন্তর্ভুক্তি এনসিপির সাংগঠনিক সম্প্রসারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে দেশের রাজনৈতিক সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


