অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশগুলোকে পূর্ণাঙ্গ আইনে রূপান্তরের ধারাবাহিকতায় আজ জাতীয় সংসদ (National Parliament)-এ পানি সম্পদ, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস হয়েছে। বিলগুলোর ওপর ধারা অনুযায়ী কোনো সংশোধনী প্রস্তাব না থাকায় এ বিষয়ে সংসদে দীর্ঘ আলোচনা হয়নি; সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা প্রস্তাব উত্থাপন করলে কণ্ঠভোটে সরাসরি সেগুলো গৃহীত হয়।
অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (Hafiz Uddin Ahmed)। তার সভাপতিত্বেই দিনের কার্যক্রম দ্রুততার সঙ্গে এগিয়ে চলে।
অন্তর্বর্তী সময়ে জারি করা মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে সংসদের বিশেষ কমিটি ৯৮টি অপরিবর্তিতভাবে এবং ১৫টি সংশোধনসহ পাসের সুপারিশ করেছে। বাকি ২০টির মধ্যে ৪টি বাতিল এবং ১৬টি আরও শক্তিশালী করে নতুন বিল আকারে আনার পরামর্শ দেওয়া হয়। আজ যেসব বিল পাস হয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে বিশেষ কমিটি অপরিবর্তিতভাবে অনুমোদনের সুপারিশই করেছিল।
পাস হওয়া বিলগুলোর মধ্যে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি (Shahid Uddin Chowdhury Annie) ‘বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ বিল, ২০২৬’ সংসদে উত্থাপন করেন। প্রস্তাবটি কণ্ঠভোটে পাস হয়, যা দেশের জলাভূমি সংরক্ষণে নতুন আইনি কাঠামো তৈরি করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এরপর আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান (Asaduzzaman) একে একে ‘ফৌজদারি কার্যবিধি (সংশোধন) বিল, ২০২৬’, ‘দেওয়ানি আদালত (সংশোধন) বিল, ২০২৬’, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ এবং ‘রেজিস্ট্রেশন (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ পাসের প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। প্রতিটি বিল পৃথকভাবে কণ্ঠভোটে গৃহীত হয়।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সংক্রান্ত বিল উপস্থাপনের সময় তিনি উল্লেখ করেন, এ আইনে মানবতাবিরোধী অপরাধের সংজ্ঞায় ‘গুম’ (বাধ্যতামূলক নিখোঁজ) অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করে তিনি বলেন, গুমের বিচার নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর এবং এই আইন সেই প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন। এ বিষয়ে বিভিন্ন মহলের প্রশ্নেরও জবাব দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
এরপর স্পিকার অন্যান্য বিল পাসের কার্যক্রম শুরু করেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত আরও কয়েকটি বিলও একই দিনে পাস হয়। মূলত নাম পরিবর্তনের মাধ্যমে বিদ্যমান আইন সংশোধনের লক্ষ্যে জারি করা অধ্যাদেশগুলোর অনুমোদনের জন্য এসব বিল আনা হয়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ (Salahuddin Ahmed) ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ এবং ‘শেখ হাসিনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ সংসদে উত্থাপন করেন। পাশাপাশি ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) বিল’ও উপস্থাপন করা হয়।
পরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন (Sardar Md. Sakhawat Hossain) ‘বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করলে সেটিও কণ্ঠভোটে অনুমোদিত হয়।


