জ্বালানি তেলের বাড়তি চাপ সামাল দেওয়া এবং ফিলিং স্টেশনগুলোতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই বাংলাদেশে চালু হচ্ছে ‘ফুয়েল পাস’ কার্যক্রম। ইতোমধ্যেই দেশের কয়েকটি জেলায় এর প্রাথমিক বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। ঠাকুরগাঁও, সিরাজগঞ্জ ও চুয়াডাঙ্গার মতো জেলাগুলোতে স্থানীয় প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে এই কার্ড বিতরণ কার্যক্রম চলছে, যা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা দিচ্ছে।
এই অভিজ্ঞতাকে ভিত্তি করে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ (Energy and Mineral Resources Division) এখন বৃহত্তর পরিসরে উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে। খুব শিগগিরই রাজধানী ঢাকা (Dhaka)-তেও পরীক্ষামূলকভাবে এই ‘ফুয়েল পাস’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম ধাপে মোটরসাইকেল চালকদের এই ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে বলে জানা গেছে।
এই কার্ড ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিটি কার্ডধারী কতটুকু জ্বালানি তেল উত্তোলন করছেন, তার একটি সুনির্দিষ্ট হিসাব রাখা সম্ভব হবে। ফলে অতিরিক্ত তেল উত্তোলন বা অপচয় রোধ করা সহজ হবে এবং বাজারে একটি নিয়ন্ত্রিত পরিস্থিতি বজায় রাখা যাবে—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ফুয়েল পাস পেতে হলে আবেদনকারীদের অনলাইনে একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। সরকার ইতোমধ্যে এ জন্য একটি ওয়েবসাইট চালু করেছে। সেখানে প্রবেশ করে মোট চারটি ধাপে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে হবে। প্রথমে fuelpass.gov.bd ওয়েবসাইটে গিয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (BRTA)-এ নিবন্ধিত গাড়ি এবং মালিকের তথ্য প্রদান করতে হবে।
তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের পর আবেদনকারীর মোবাইল ফোনে একটি ওটিপি (ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড) পাঠানো হবে। সেটি নির্ধারিত স্থানে সাবমিট করার পর অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত বাকি তথ্য পূরণ করতে হবে। পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হলেই আবেদনটি গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবে।
আবেদন করার সময় কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা বাধ্যতামূলক। এর মধ্যে রয়েছে জাতীয় পরিচয়পত্র (NID), গাড়ির ব্লু-বুক, বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স, একটি সচল মোবাইল নম্বর এবং পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি।
সব মিলিয়ে, ‘ফুয়েল পাস’ উদ্যোগটি জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় একটি নতুন অধ্যায় সূচনা করতে যাচ্ছে, যা সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা ফেরাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।


