সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে ফেসবুকে সরকারবিরোধী পোস্ট দেওয়ার ঘটনায় ২৭ জন বিচারকের কাছে ব্যাখ্যা (শোকজ) তলব করেছে আইন মন্ত্রণালয়। সংশ্লিষ্ট বিচারকদের আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আইন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (১৩ এপ্রিল) ও মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) পৃথকভাবে এসব বিচারকের কাছে নোটিশ পাঠানো হয়। নোটিশপ্রাপ্তদের মধ্যে অধিকাংশই সিনিয়র সহকারী জজ ও সহকারী জজ পদমর্যাদার কর্মকর্তা।
বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) প্রশাসন ২০১৯ সালের ২২ সেপ্টেম্বর একটি সার্কুলার জারি করেছিল। সেই সার্কুলারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়। পরবর্তীতেও একাধিকবার এই নির্দেশনা মেনে চলার জন্য বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সতর্ক করা হয়েছে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও পৃথক সচিবালয় সংক্রান্ত বিষয়ে ২৭ জন বিচারক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারবিরোধী পোস্ট দিয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী, এ ধরনের কর্মকাণ্ড ‘অসদাচরণ’ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
এক্ষেত্রে বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালা, ২০১৭ (Bangladesh Judicial Service Discipline Rules 2017) অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি প্রচলিত অন্যান্য আইন ও বিধি-বিধানও প্রযোজ্য হতে পারে বলে জানা গেছে।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, উক্ত বিধিমালার বিধি-৩-এর উপবিধি (২) অনুসারে ‘অসদাচরণ’-এর অভিযোগে কেন বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না—তা আগামী সাত দিনের মধ্যে লিখিতভাবে জানাতে হবে সংশ্লিষ্ট বিচারকদের।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিচার বিভাগের অভ্যন্তরে শৃঙ্খলা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের নীতিমালা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।


