ইরানকে ঘিরে ‘অগ্রহণযোগ্য’ হুমকি—ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সরব পোপ লিও

মার্কিন প্রেসিডেন্টের নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে, ইরানের অস্তিত্বকে ঘিরে দেওয়া হুমকির তীব্র সমালোচনা করেছেন ক্যাথলিক বিশ্বের শীর্ষ ধর্মীয় নেতা পোপ লিও (Pope Leo)। তার এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

রোমের দক্ষিণে ইতালির কাস্তেল গান্দোলফোতে অবস্থিত নিজের গ্রামীণ বাসভবন ত্যাগ করার সময় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আজ আমরা সবাই জানি, ইরানের সমগ্র জনগণের প্রতি একটি হুমকি দেওয়া হয়েছে। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

পোপের এই বক্তব্য মূলত ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)-এর একটি বিতর্কিত পোস্টকে কেন্দ্র করে। সেই পোস্টে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি ইরান (Iran) ‘হরমুজ প্রণালী’ পুনরায় উন্মুক্ত না করে, তবে “একটি সম্পূর্ণ সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।” এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে।

উল্লেখ্য, বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) ঘিরে যে কোনো উত্তেজনা সরাসরি জ্বালানি বাজার ও বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে ট্রাম্পের বক্তব্য শুধু রাজনৈতিক নয়, অর্থনৈতিক দিক থেকেও গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

ইরানকে ঘিরে সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতির একজন দৃঢ় সমালোচক হিসেবে ইতোমধ্যেই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন পোপ লিও। তিনি বিশ্বজুড়ে সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রত্যেকে যেন তাদের নিজ নিজ রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে এই ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক সংঘাত বন্ধে চাপ সৃষ্টি করে।

এর আগে একই দিনে ইউএস কনফারেন্স অফ ক্যাথলিক বিশপস (US Conference of Catholic Bishops) এক বিবৃতিতে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানায়। বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র যেন “যুদ্ধের কিনারা থেকে সরে আসে এবং শান্তির স্বার্থে একটি ন্যায়সঙ্গত সমাধানের লক্ষ্যে আলোচনায় বসে।”

আন্তর্জাতিক মহলে এই ঘটনাকে নতুন এক কূটনৈতিক উত্তেজনার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে ধর্মীয় নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে অবস্থানগত পার্থক্য ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *