সংসদে তারেক রহমান ও আরাফাত রহমানকে ‘শিশু মুক্তিযোদ্ধা’ ঘোষণার দাবি, খালেদা জিয়ার স্বীকৃতি নিয়েও জোরালো বক্তব্য

মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া (Khaleda Zia) ও তার পরিবারের অবদানকে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি নতুন করে তুলেছেন গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান (Mujibur Rahman)। তিনি শুধু খালেদা জিয়াকেই বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানাননি, তার দুই সন্তান—বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (Tarique Rahman) এবং মরহুম আরাফাত রহমান কোকো (Arafat Rahman Koko)-কে ‘শিশু মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছেন।

বুধবার (০৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ (Jatiya Sangsad)-এর অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ বক্তব্য তুলে ধরেন। অধিবেশনটি পরিচালনা করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।

‘সবার আগে বাংলাদেশ’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে গাজীপুরবাসীর ঐক্যের কথা তুলে ধরে মুজিবুর রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে দীর্ঘ নয় মাস বন্দি থেকেও খালেদা জিয়া ও তার পরিবার যে ধৈর্য, সহনশীলতা এবং দেশপ্রেমের নজির স্থাপন করেছেন, তা ইতিহাসে বিরল বলেই বিবেচিত হওয়া উচিত।

তিনি আরও বলেন, “আমাদের প্রিয় নেত্রী, দেশমাতা খালেদা জিয়া ১৯৭১ সালে তার দুই সন্তানসহ পাকিস্তানিদের হাতে বন্দি ছিলেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তার ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকো মায়ের সঙ্গে সেই বন্দিজীবনের চরম কষ্ট সহ্য করেছেন। এটি কোনো রাজনৈতিক চাটুকারিতা নয়, বরং ইতিহাসের অকপট সত্য।”

তার বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল একটি দীর্ঘদিনের দাবির পুনরুচ্চারণ। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে যেমন বলেছিলেন, এখনও একইভাবে দাবি জানাচ্ছেন—খালেদা জিয়াকে তার অবদানের জন্য পূর্ণাঙ্গ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে। একই সঙ্গে, নয় মাস বন্দিজীবন কাটানোর কারণে তার দুই সন্তানকে ‘শিশু মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দেওয়ার সময় এসেছে।

তারেক রহমানের রাজনৈতিক বক্তব্য ও দেশপ্রেমের আহ্বানের প্রসঙ্গ টেনে মুজিবুর রহমান বলেন, সাধারণ মানুষ সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে রাজপথে নেমেছে। তাদের বিশ্বাস, একটি বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গড়তে হলে ইতিহাসের প্রতিটি ত্যাগ ও অবদানকে যথাযথ মর্যাদা দিতে হবে।

এ সময় মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর জীবনের বেদনাময় দিকগুলোও তুলে ধরেন তিনি। তার ভাষায়, পরিকল্পিতভাবে তাকে তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। শৈশবে যুদ্ধকালীন বন্দিজীবন থেকে শুরু করে পরবর্তী জীবনে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হওয়া—তার পুরো জীবনই ছিল সংগ্রাম আর কষ্টের এক দীর্ঘ অধ্যায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *