বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট জেনারেল আসাদুল্লাহ মিনহাজুল আলম জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন ইউএনএফআইসিওয়াইপি (UNFICYP)-এর ফোর্স কমান্ডার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। বুধবার (৮ এপ্রিল) নিউ ইয়র্কে অবস্থিত জাতিসংঘ (United Nations) সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এ নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। তিনি মঙ্গোলিয়ার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এরদেনেবাত বাতসুরির স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন। একই বিবৃতিতে বিদায়ী ফোর্স কমান্ডারের নিষ্ঠা ও দায়িত্ব পালনের জন্য জাতিসংঘ মহাসচিব গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
লেফটেন্যান্ট জেনারেল মিনহাজুল আলম দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী (Bangladesh Army)-তে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তার কর্মজীবনে রয়েছে কমান্ড, স্টাফ এবং প্রশিক্ষণমূলক দায়িত্বে বিস্তৃত ও সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা। এ নিয়োগের আগে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ‘আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ড’-এ জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন, যেখানে সামরিক কৌশল, প্রশিক্ষণ ও নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
এর আগে তিনি ১০ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি এবং কক্সবাজার এরিয়া কমান্ডার (২০২৪–২০২৬) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। শুধু তাই নয়, ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ (ডিএসসিএসসি)-এর কমান্ড্যান্ট হিসেবেও তিনি সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব সম্পন্ন করেছেন। তার এই বহুমাত্রিক অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বগুণই তাকে আন্তর্জাতিক এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নির্বাচিত করার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই নিয়োগকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদারিত্ব, দক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। বহু বছর ধরেই জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশ অন্যতম শীর্ষ অবদানকারী দেশ হিসেবে পরিচিত। বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে হাজারো বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।
উল্লেখ্য, ইউএনএফআইসিওয়াইপি হলো সাইপ্রাসে নিয়োজিত জাতিসংঘের একটি গুরুত্বপূর্ণ শান্তিরক্ষা মিশন, যেখানে দ্বীপটির স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় বিভিন্ন দেশের শান্তিরক্ষীরা কাজ করে থাকেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের পেশাদারিত্ব, মানবিকতা এবং দক্ষতা ইতোমধ্যেই ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছে—এই নতুন নিয়োগ সেই ধারাবাহিকতাকেই আরও জোরালোভাবে তুলে ধরলো।


