শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের বহুল আলোচিত নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত বড় ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাত সাড়ে আটটার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন (Mohammad Jahangir Hossain), যিনি শেরপুর জেলার নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন।
ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, শেরপুর-৩ আসনের মোট ১২৮টি কেন্দ্রের ভোট গণনায় বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল পেয়েছেন ১ লাখ ৬৬ হাজার ১১৭ ভোট। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা জামায়াতে ইসলামী (Jamaat-e-Islami) মনোনীত প্রার্থী আলহাজ মাসুদুর রহমান মাসুদ পেয়েছেন ৪৭ হাজার ৫১ ভোট। ভোটের ব্যবধান থেকেই স্পষ্ট, এ আসনে একতরফা প্রাধান্য বিস্তার করেছেন বিজয়ী প্রার্থী।
অন্যদিকে, বাসদ (Bangladesh Samajtantrik Dal) সমর্থিত কাঁচি প্রতীকের প্রার্থী মিজানুর রহমান পেয়েছেন মাত্র ৪৮০ ভোট, যা এই নির্বাচনে তার সীমিত প্রভাবকেই তুলে ধরে।
নির্বাচনের দিন সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে বিরতিহীনভাবে চলে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। ভোটগ্রহণের পুরো সময়জুড়ে পরিস্থিতি মোটামুটি শান্ত থাকলেও বিচ্ছিন্নভাবে কিছু অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি সারা দেশের অন্যান্য আসনের সঙ্গে এই আসনেও ভোটগ্রহণ হওয়ার কথা থাকলেও এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে নির্বাচন স্থগিত করা হয়। পরবর্তীতে পুনঃনির্ধারিত তারিখে ভোট অনুষ্ঠিত হয়।
রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, সার্বিকভাবে সুষ্ঠু ও স্বাভাবিক পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। যদিও কিছু স্থানে জাল ভোট দেওয়ার ঘটনা শনাক্ত করা হয়েছে, এবং এ ঘটনায় জড়িতদের আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এই আসনে মোট ভোটারদের মধ্যে ৫০ দশমিক ৫২ শতাংশ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন, যা উপস্থিতির দিক থেকে মাঝারি পর্যায়ের অংশগ্রহণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


