হাসিনাকে ফেরত চেয়ে ভারতের কাছে আবারও আনুষ্ঠানিক দাবি জানালেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina)-কে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর দাবি ভারতের কাছে আবারও পুনর্ব্যক্ত করেছে ঢাকা। শুক্রবার মরিশাসের পোর্ট লুইসে নবম ভারত মহাসাগরীয় সম্মেলন শেষে দেশে ফেরার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা জানান বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান (Dr. Khalilur Rahman)। একই সঙ্গে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (Tarique Rahman)-এর সম্ভাব্য ভারত সফরেরও ইঙ্গিত দেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

চলতি সপ্তাহে দিল্লি সফরকালে খলিলুর রহমান ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল (Ajit Doval) এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (S. Jaishankar)-এর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন। ওই বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ আগেই শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়েছে। এবারের সফরেও সেই দাবিই পুনরায় তোলা হয়েছে। তবে কৌশলগত কারণ দেখিয়ে আলোচনার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশে আপাতত বিরত থাকেন তিনি।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার তীব্র গণ-আন্দোলনের মুখে দেশ ছাড়ার পর থেকে শেখ হাসিনা ভারতের রাজধানী দিল্লিতে অবস্থান করছেন। দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাঁকে এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে ফেরত আনার প্রক্রিয়া বর্তমানে ভারত সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।

২০২৫ সালের নভেম্বরে দিল্লি সফরের কয়েক দিনের মধ্যেই বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠায়। মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তাঁদের প্রত্যর্পণের আবেদন জানানো হয়েছিল। সে সময় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল (Randhir Jaiswal) জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশের অনুরোধ ভারতের নিজস্ব বিচারিক ও অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে প্রশ্নের জবাবে খলিলুর রহমান বলেন, সফরটি অবশ্যই হবে, তবে এখনো নির্দিষ্ট তারিখ ঠিক হয়নি। তিনি জানান, সফরের প্রস্তুতি হিসেবে আগামী কয়েক সপ্তাহে নানা পর্যায়ের কার্যক্রম হবে। দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে চিঠি আদান-প্রদান করেছেন এবং টেলিফোনেও কথা বলেছেন। দুই পক্ষই সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে আগ্রহী।

দিল্লির বৈঠক নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের অগ্রগতির দৃশ্যমান ফল দেখা যেতে পারে। একই সঙ্গে গত এক বছরে সীমিত থাকা ভিসা প্রক্রিয়া স্বাভাবিক করার বিষয়ও বাংলাদেশ তুলে ধরেছে।

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের কারণে সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ভারতের সহযোগিতা চেয়েছে ঢাকা। খলিলুর রহমান সতর্ক করে বলেন, এই সংকট আরও ঘনীভূত হতে পারে এবং ১৯৭০-এর দশকের তেল সংকটের মতো উন্নয়নের ধারাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। তাঁর মতে, এ ধরনের সংকট মোকাবিলায় আঞ্চলিক ঐক্য ও সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি।

তিনি আরও বলেন, এ বছর বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশ এই আঞ্চলিক জোটকে সক্রিয় করতে চায়। পাশাপাশি দীর্ঘদিন স্থগিত থাকা সার্ক সম্মেলন পুনরায় চালুর পক্ষেও জোরালো অবস্থান নিয়েছে ঢাকা। তাঁর ভাষায়, অংশগ্রহণে অনাগ্রহী দেশগুলোর আপত্তির কারণ দূর করা গেলে সার্ক পুনরায় সক্রিয় হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *