জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে মহিলা জামায়াত (Mohila Jamaat)। মাঠপর্যায়ের আন্দোলন-সংগ্রামের পাশাপাশি সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণায়ও দলটির নারী শাখার সক্রিয় উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, বর্তমান সময়ে জামায়াতে ইসলামী (Jamaat-e-Islami)-এর সাংগঠনিক শক্তির একটি বড় ভিত্তি হয়ে উঠেছে এই নারী শাখা।
আগামী ১১ মে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ (13th National Parliament)-এর সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট পাচ্ছে ১৩টি সংরক্ষিত নারী আসন। এর মধ্যে ১২টি আসন পাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী এবং একটি আসন বরাদ্দ হচ্ছে এনসিপি (NCP)-এর জন্য।
দলীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, মহিলা জামায়াত ইতোমধ্যে দলের আমিরের কাছে ১২ জন সম্ভাব্য নারী প্রার্থীর একটি তালিকা জমা দিয়েছে। তবে এখনই প্রার্থীদের নাম প্রকাশ করতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি। তিনি জানিয়েছেন, তালিকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন পেশার নারীরা স্থান পেয়েছেন।
প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র রাজনৈতিক পরিচয় নয়, ধর্মীয় ও সাংগঠনিক যোগ্যতার পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা, সততা, জনসম্পৃক্ততা এবং বক্তব্য প্রদানের দক্ষতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া যেসব এলাকায় দলীয় পুরুষ প্রার্থীরা নির্বাচিত হতে পারেননি, সেসব অঞ্চলের নারী নেত্রীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে নাম প্রকাশ করা হয়নি, তবে একাধিক সূত্রে জানা গেছে—আলোচনায় রয়েছেন মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন্নিসা সিদ্দীকা, আইন ও মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সাবিকুন্নাহার মুন্নী, ডা. আমিনা বেগম, ডা. হাবিবা চৌধুরী সুইট, ডা. ফেরদৌস আরা খানম, আয়েশা সিদ্দিকা পারভীন এবং প্রভাষক মারদিয়া মমতাজসহ আরও কয়েকজন।
মহিলা জামায়াতের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় একই পরিবার থেকে একাধিক সদস্য যেন সংসদে প্রবেশ না করেন, সে বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি, শহীদ বা নির্যাতিত পরিবারের কেউ তালিকায় থাকলেও তা শুধুমাত্র যোগ্যতার ভিত্তিতেই বিবেচিত হবে।
অন্যদিকে, জোটের শরিক দল এনসিপির একমাত্র নারী আসনকে ঘিরেও একাধিক প্রার্থী সক্রিয়ভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। একইসঙ্গে, যেসব দল কোনো আসনে জয়লাভ করতে পারেনি, তাদের পক্ষ থেকেও সংরক্ষিত নারী আসনে অংশগ্রহণের দাবি উঠেছে।
জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের নেতারা জানিয়েছেন, সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে নিয়ম ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শেষে খুব শিগগিরই প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা ঘোষণা করা হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।


