প্রতিদিন যেন লা’\শের মিছিল দীর্ঘতর হচ্ছে—বজ্রপা’\তের আঘাতে ঝরে যাচ্ছে একের পর এক প্রাণ। শনিবার (১৮ এপ্রিল) মাত্র একদিনেই অন্তত ১১ জন নি’\হত হয়েছেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। প্রাকৃতিক এই দুর্যোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা না গেলেও সচেতনতার মাধ্যমে ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব—এমনটাই বলছেন বিশেষজ্ঞরা।
তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ (Bangladesh)-এ প্রতি বছর এপ্রিল থেকে জুন, অর্থাৎ চৈত্র থেকে আষাঢ় মাস পর্যন্ত বজ্রপা’\তের প্রবণতা সবচেয়ে বেশি থাকে। এই সময়টাতেই প্রা’\ণহানির আশঙ্কা বেড়ে যায় উল্লেখযোগ্যভাবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপা’\তে বহু মা’\রা যাওয়ার ঘটনা যে হারে বাড়ছে, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বিশেষজ্ঞ মহলে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু নির্দিষ্ট সতর্কতা মেনে চললে এই প্রা’\ণঘাতী পরিস্থিতি থেকে অনেকটাই নিরাপদ থাকা সম্ভব।
প্রথমত, বজ্রঝড় সাধারণত ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট স্থায়ী হয়। এই সময় ঘরের ভেতরে অবস্থান করাই সবচেয়ে নিরাপদ। আকাশে যদি গভীর ও উলম্ব মেঘ দেখা যায়, তাহলে অপ্রয়োজনে বাইরে বের না হওয়াই ভালো। জরুরি প্রয়োজনে বাইরে গেলে রাবারের জুতা ব্যবহার কিছুটা সুরক্ষা দিতে পারে।
দ্বিতীয়ত, খোলা মাঠ বা ধানক্ষেতে থাকলে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে নেওয়া জরুরি। যদি আশ্রয়ের সুযোগ না থাকে, তাহলে পায়ের আঙুলের ওপর ভর দিয়ে নিচু হয়ে বসে কানে আঙুল দিয়ে মাথা নিচু করে রাখা তুলনামূলক নিরাপদ পদ্ধতি হিসেবে বিবেচিত।
তৃতীয়ত, বজ্রপা’\তের সময় কংক্রিটের ভবন বা মজবুত ছাউনির নিচে থাকা উচিত। ভবনের ছাদ বা উঁচু স্থানে অবস্থান ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে শিশুদের এ সময় খোলা জায়গায় খেলাধুলা করতে না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
চতুর্থত, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি যেমন মোবাইল, টেলিভিশন, কম্পিউটার ও ফ্রিজ বজ্রপা’\তের সময় বন্ধ রাখা এবং প্লাগ খুলে রাখা নিরাপদ। খোলা জায়গায় একসঙ্গে অনেক মানুষ থাকলে বজ্রপাত শুরু হলে সবাইকে দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।
সবশেষে, উঁচু গাছ, বৈদ্যুতিক খুঁটি, তার, ধাতব বস্তু এবং মোবাইল টাওয়ার থেকে দূরে থাকা জরুরি। নদী, হাওর বা জলাশয়ে থাকলে দ্রুত সরে আসতে হবে। ছাউনিবিহীন নৌকায় থাকা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, তাই প্রয়োজনে নৌকার নিরাপদ অংশে আশ্রয় নেওয়াই উত্তম।


