ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণের দ্বিতীয় দিনের কার্যক্রম শেষ হয়েছে এক ব্যস্ত ও ভিড়পূর্ণ পরিবেশে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৩টায় গুলশানে দলীয় চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে মনোনয়ন বোর্ডের সদস্যরা এই সাক্ষাৎকার কার্যক্রম শুরু করেন। তবে আনুষ্ঠানিক সময়ের আগেই দুপুর গড়াতেই কার্যালয় প্রাঙ্গণ ভরে ওঠে প্রার্থীদের উপস্থিতিতে—যেন প্রত্যাশা, প্রতিযোগিতা আর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ একসঙ্গে মিলেমিশে গেছে সেই ভিড়ে।
দলের মিডিয়া সেল সূত্রে জানা গেছে, দ্বিতীয় দিনে চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। এর আগের দিন, অর্থাৎ শুক্রবার (১৭ এপ্রিল), প্রথম দফায় রাজশাহী, রংপুর, খুলনা, বরিশাল ও ফরিদপুর বিভাগের প্রার্থীদের মুখোমুখি হয় মনোনয়ন বোর্ড।
এই গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ায় উপস্থিত ছিলেন দলের শীর্ষ নেতারা। মনোনয়ন বোর্ডে নেতৃত্ব দেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (Tarique Rahman)। তার সঙ্গে ছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (Mirza Fakhrul Islam Alamgir), স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন (Khandaker Mosharraf Hossain), গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ (Ruhul Kabir Rizvi Ahmed)।
দলীয় সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সাক্ষাৎকার কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং প্রার্থীদের যোগ্যতা, সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা যাচাইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। পুরো প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই চূড়ান্ত মনোনয়ন ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
সাক্ষাৎকার দিতে আসা প্রার্থীদের অনেকেই নিজেদের রাজনৈতিক ভূমিকার কথা তুলে ধরেছেন। তাদের দাবি, বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে তারা রাজপথে দলের পক্ষে জনমত গড়ে তুলেছেন। সেই অভিজ্ঞতা ও অবদানের স্বীকৃতি হিসেবেই তারা মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা থেকে আসা প্রার্থী রাইকা ওয়ালী খান গণমাধ্যমকে জানান, বিগত সরকারের সময় তাকে নানা ধরনের হয়রানির মুখে পড়তে হয়েছে। তবে এবার দলের পক্ষ থেকে তার ত্যাগ ও সংগ্রামের মূল্যায়ন হবে বলে তিনি আশাবাদী।
অন্যদিকে কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি ও মেঘনা) এলাকা থেকে সাক্ষাৎকার দেওয়া নাঈমা খন্দকার বলেন, তিনি অবহেলিত ও বঞ্চিত নারীদের জন্য কাজ করতে চান। জাতীয় সংসদে গিয়ে জনগণের পক্ষে কথা বলাই তার প্রধান লক্ষ্য। তিনি আরও জানান, কিশোরী বয়স থেকেই বিএনপির আদর্শ ধারণ করে আসছেন এবং সবসময় দলের কার্যক্রমে সক্রিয় থেকেছেন।
দলীয় সূত্রে আরও জানা যায়, মোট ১ হাজার ০২৫টি মনোনয়ন ফরম বিক্রি হলেও প্রায় ৯০০ জন প্রার্থী তা জমা দিয়েছেন। প্রতিটি ফরমের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ হাজার টাকা, এবং জমা দেওয়ার সময় প্রত্যেক প্রার্থীকে ৫০ হাজার টাকা জামানত প্রদান করতে হয়েছে।
এর আগে, গত ৮ এপ্রিল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে নির্বাচন কমিশন (Election Commission) সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ২১ এপ্রিল। এরপর ২২ ও ২৩ এপ্রিল যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠিত হবে। ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত আপিল করা যাবে এবং ২৭ ও ২৮ এপ্রিল সেই আপিল নিষ্পত্তি করা হবে। ২৯ এপ্রিল প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন, আর ৩০ এপ্রিল প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। সবশেষে, আগামী ১২ মে অনুষ্ঠিত হবে ভোটগ্রহণ।
জাতীয় সংসদের মোট ৩৫০টি আসনের মধ্যে ৫০টি আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত। এর মধ্যে বিএনপি জোটের জন্য নির্ধারিত রয়েছে ৩৬টি আসন, জামায়াতে ইসলামীসহ তাদের জোট পাবে ১৩টি আসন এবং একটি আসন রাখা হয়েছে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য।


