চলতি এপ্রিল মাসে ভারত থেকে অতিরিক্ত ১২ হাজার মেট্রিক টন পরিশোধিত ডিজেল আমদানির পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এই জ্বালানি আসবে বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে, যা সরাসরি পদ্মা অয়েল পিএলসি’র পার্বতীপুর ডিপোতে পৌঁছাবে। দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটাতে সরকার বহুমুখী উদ্যোগ হাতে নিয়েছে, যার অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের পাশাপাশি ভারত থেকেও নিয়মিত ডিজেল আমদানি অব্যাহত রাখা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এপ্রিলের শুরুতেই ভারত থেকে মোট ২৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির পরিকল্পনা করা হয়। নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেড (Numaligarh Refinery Limited) থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে চার ধাপে এই ডিজেল দেশে আনা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ৭ এপ্রিল মধ্যরাতে প্রথম ধাপে ৮ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল পাম্পিং শুরু হয়, যা ১১ এপ্রিল পার্বতীপুর ডিপোতে পৌঁছে যায়। পরবর্তী ধাপে ১৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেলের পাম্পিং শুরু হয় এবং তা আজ বিকেল পৌনে ৬টার দিকে ডিপোতে এসে পৌঁছেছে।
এ বিষয়ে মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড (Meghna Petroleum Limited)-এর অপারেশন ম্যানেজার কাজী মো. রবিউল আলম জানান, এপ্রিল মাসে মোট ২৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে দুই ধাপে ১৩ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল পার্বতীপুর ডিপোতে পৌঁছেছে।
তিনি আরও জানান, অবশিষ্ট ১২ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল দুই ধাপে দেশে আসবে। খুব শিগগিরই ৭ হাজার মেট্রিক টনের একটি চালানের পাম্পিং শুরু হবে। সেটি পৌঁছানোর পর পরবর্তী ধাপে বাকি ৫ হাজার টন ডিজেলের পাম্পিং কার্যক্রম শুরু হবে।
দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত পদ্মা অয়েল কোম্পানির এই ডিপোটি ১৯৬৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এটি দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ রেলহেড অয়েল ডিপো হিসেবে পরিচিত। বর্তমানে এটি পদ্মা অয়েল পিএলসি (Padma Oil PLC)-এর মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে, যা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (Bangladesh Petroleum Corporation)-এর অধীনে রয়েছে। এই ডিপো থেকে উত্তরাঞ্চলের আটটি জেলায় জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের মার্চ মাস থেকে বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী পাইপলাইন (Bangladesh-India Friendship Pipeline)-এর মাধ্যমে ভারত থেকে ডিজেল আমদানি শুরু হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় আগামী ১৫ বছর পর্যন্ত এই আমদানি কার্যক্রম চলমান থাকবে।


