দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র চট্টগ্রাম বন্দর (Chattogram Port) কোনো বিদেশি অপারেটরের হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা সরকারের নেই—এমন স্পষ্ট অবস্থান জানিয়েছেন নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, বন্দর পরিচালনায় বিদেশি অংশগ্রহণ থাকলেও মালিকানা বা নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তরের প্রশ্নই ওঠে না।
বুধবার জাতীয় সংসদে লক্ষ্মীপুর-1 আসনের সংসদ সদস্য মো. শাহাদাত হোসেনের টেবিলে উত্থাপিত তারকাচিহ্নিত এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন, নির্দিষ্ট নীতিমালার আওতায় কেবল বন্দরের টার্মিনাল পরিচালনার জন্য অপারেটর নিয়োগ দেওয়া হয়, যা পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ অথরিটি (Public-Private Partnership Authority)-এর অনুমোদন সাপেক্ষে হয়ে থাকে।
মন্ত্রী আরও জানান, এই প্রক্রিয়ায় দেশি ও বিদেশি—উভয় ধরনের অপারেটরই বিবেচনায় আসে। তবে এটি সম্পূর্ণভাবে পরিচালনাগত দক্ষতা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের লক্ষ্যে নেওয়া হয়, মালিকানা হস্তান্তরের জন্য নয়।
বর্তমানে বন্দরের আধুনিকায়ন ও আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের ক্রমবর্ধমান চাপ সামাল দিতে বিভিন্ন টার্মিনাল দেশি-বিদেশি অপারেটরের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল, যা বিদেশি অপারেটরের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।
এছাড়া কর্ণফুলী নদীর ডান তীরে লালদিয়া চরে একটি নতুন কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনার জন্য পিপিপি পদ্ধতিতে ডেনমার্কভিত্তিক মার্কস গ্রুপ (Maersk Group)-এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান এপিএম টার্মিনালস (APM Terminals)-এর সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সরকারের এই অবস্থান স্পষ্ট করে যে, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা থাকলেও দেশের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতেই রাখার নীতিতে অটল রয়েছে সরকার।


