স্বাধীনতার স্মৃতিকে সম্মান জানিয়ে ফুল-নদীর নাম সরিয়ে জাতীয় সংসদে বীরশ্রেষ্ঠদের নামে গ্যালারি

জাতীয় সংসদের বিভিন্ন গ্যালারির নাম পরিবর্তন করে মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান রাখা বীরশ্রেষ্ঠদের নামে নামকরণ করা হয়েছে। জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এর আগে এসব গ্যালারির নাম ছিল ফুল ও নদীর নামে।

নতুন এই নামকরণের ফলে সংসদ ভবনের ভেতরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো এখন সরাসরি দেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গেল। এর মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের বীরত্বগাথা স্মরণে রাখার একটি প্রতীকী ও তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন অনেকে।

নতুন নাম অনুযায়ী, গ্যালারি-৩ এর নাম রাখা হয়েছে বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক মুন্সী আব্দুর রউফ (Munshi Abdur Rouf) (পূর্বের নাম: শিমুল), গ্যালারি-৪ এর নামকরণ করা হয়েছে বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান (Matiur Rahman) (পূর্বের নাম: শিউলি), গ্যালারি-৫ এর নামকরণ করা হয়েছে বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ রুহুল আমিন (Mohammad Ruhul Amin) (পূর্বের নাম: বকুল), এবং গ্যালারি-৬ এর নাম দেওয়া হয়েছে বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ (Noor Mohammad Sheikh) (পূর্বের নাম: শাপলা)।

এছাড়া গ্যালারি-৭ এর নাম রাখা হয়েছে বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল (Mohammad Mostafa Kamal) (পূর্বের নাম: যমুনা)। ভিআইপি গ্যালারি-১ এর নামকরণ করা হয়েছে বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর (Mohiyuddin Jahangir) (পূর্বের নাম: পদ্মা), এবং ভিআইপি গ্যালারি-২ এর নাম রাখা হয়েছে বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমান (Hamidur Rahman) (পূর্বের নাম: মেঘনা)।

এদিকে, গ্যালারি-১ ও গ্যালারি-২ সাংবাদিকদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে, যা ‘সাংবাদিক গ্যালারি’ হিসেবে ব্যবহৃত হবে।

এই নাম পরিবর্তনের মাধ্যমে জাতীয় সংসদ শুধু একটি প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান হিসেবেই নয়, বরং ইতিহাস ও আত্মত্যাগের স্মারক হিসেবেও আরও গভীর তাৎপর্য বহন করবে—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *