স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচিত সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা জাতীয় সংসদে জোরালোভাবে দাবি তুলেছেন, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র (United States)-এর সঙ্গে সম্পাদিত বাণিজ্য চুক্তিটি সংসদে উপস্থাপন করতে হবে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এই দাবি জানান, যা তাৎক্ষণিকভাবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে।
রুমিন ফারহানা বলেন, মঙ্গলবার মার্কিন রাষ্ট্রদূত (US Ambassador)-এর সঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী (Commerce Minister)-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেই বৈঠকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত চুক্তি সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে মন্তব্য করেছেন, যা নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে এই চুক্তি সম্পাদিত হয়েছিল। সেই সময় দেশের ‘সুশীল সমাজ’ ও ‘থিংকট্যাংক মহল’ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছিল। তাদের বক্তব্য ছিল, একটি অনির্বাচিত সরকারের পক্ষে এমন গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক চুক্তি করা উচিত নয়। আরও অভিযোগ উঠেছিল, চুক্তির কিছু ধারা বাংলাদেশের স্বার্থের পরিপন্থী হতে পারে।
রুমিন ফারহানা সংসদে দাবি করেন, এই চুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা অনুযায়ী সরকার চাইলে ৬০ দিনের মধ্যে এটি বাতিল করতে পারে। তার মতে, এই ধরনের একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত থাকা সত্ত্বেও চুক্তিটি নিয়ে সংসদে আলোচনা না হওয়া অগ্রহণযোগ্য। তাই তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিষয়টি সংসদের সামনে আনা জরুরি।
এ সময় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (Hafiz Uddin Ahmed) তাকে থামিয়ে দিয়ে বলেন, এটি একটি নতুন বিষয় হিসেবে উত্থাপিত হয়েছে। তিনি রুমিন ফারহানাকে আনুষ্ঠানিকভাবে নোটিশ দেওয়ার পরামর্শ দেন এবং আশ্বস্ত করেন যে বিষয়টি বিবেচনা করে দেখা হবে।


