চলতি হজ মৌসুমে এখন পর্যন্ত ১০৬টি হজ ফ্লাইটে মোট ৪২ হাজার ৩৪২ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। শনিবার (০২ মে) সকাল ১০টা পর্যন্ত এসব ফ্লাইট জেদ্দায় অবতরণ করেছে। হজ অফিসের পরিচালক মো. লোকমান হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
হজ বুলেটিনে জানানো হয়েছে, এখন পর্যন্ত সাতজন হজযাত্রীর স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচজন মক্কায় এবং দুজন মদিনায় মারা গেছেন। এই পরিসংখ্যান হজযাত্রার পাশাপাশি কিছুটা উদ্বেগও তৈরি করছে।
স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা গেছে। সৌদি আরবে অবস্থানরত মেডিকেল টিম সরাসরি ৮ হাজার ১৫ জন হজযাত্রীকে চিকিৎসাসেবা দিয়েছে। পাশাপাশি আইটি হেল্পডেস্কের মাধ্যমে আরও ৯ হাজার ২৪০ জন প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করেছেন।
চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজ পালনের অনুমতি পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন পরিচালক। এই বিশাল আয়োজন পরিচালনায় কাজ করছে মোট ৬৬০টি এজেন্সি—এর মধ্যে ৩০টি প্রধান এবং ৬৩০টি সমন্বয়কারী এজেন্সি।
বিমান সংস্থাভিত্তিক তথ্যে দেখা যায়, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ৪৯টি ফ্লাইটে ২০ হাজার ৩৬ জন যাত্রী পরিবহন করেছে। অন্যদিকে সৌদি এয়ারলাইন্স ৩৮টি ফ্লাইটে ১৪ হাজার ৮২০ জন এবং ফ্লাইনাস ১৯টি ফ্লাইটে ৭ হাজার ৪৮৬ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছে দিয়েছে।
এখনও ৩৬ হাজার ৪ জন হজযাত্রী সৌদি যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। তারা নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে রওনা হবেন।
এর আগে, গত ১৭ এপ্রিল রাত ১১টা ৫৭ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৪১৮ জন হজযাত্রী নিয়ে প্রথম ফ্লাইট (বিজি৩০০১) জেদ্দার কিং আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। এই ফ্লাইটের উদ্বোধন করেন তারেক রহমান।
হজ অফিসের তথ্য অনুযায়ী, মোট হজযাত্রীর মধ্যে ৪ হাজার ৫৬৫ জন সরকারি ব্যবস্থাপনায় এবং ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালন করবেন।
এদিকে ঢাকাস্থ সৌদি দূতাবাস এখন পর্যন্ত মোট ৭৮ হাজার ৩৪৬টি ভিসা ইস্যু করেছে। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৪৪৩টি এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৯০৩টি ভিসা রয়েছে।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৬ মে সৌদি আরবে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। হজ শেষে ৩০ মে থেকে জেদ্দা থেকে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে, যা চলবে ৩০ জুন পর্যন্ত—শেষ ফ্লাইটটি সেদিন ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হবে।


