পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি (Bangladesh Road Transport Owners Association)। সংগঠনটি স্পষ্ট করে জানিয়েছে, কোনোভাবেই সরকার নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা যাবে না।
শনিবার (২ মে) রাজধানীর রমনার ইউনিক হাইটসে সমিতির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত কার্যনির্বাহী পরিষদের প্রথম সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সমিতির সভাপতি কফিল উদ্দিন আহম্মদ (Kofil Uddin Ahmed)। সভা পরিচালনা করেন মহাসচিব মো. সাইফুল আলম (Md. Saiful Alam)।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন কার্যকরী সভাপতি এম. এ. বাতেন, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোরশেদুল আলম কাদেরী, অতিরিক্ত মহাসচিব এ. এস. এম. আহমেদ খোকনসহ মোট ৭৯ জন সদস্য। সভা শেষে প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশের সব জেলা শাখা ও ইউনিটকে সরকার নির্ধারিত ভাড়া কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঈদযাত্রায় যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতির কথা উল্লেখ করা হয়। সংগঠনটি মনে করছে, এ সময়ে ভাড়া বাড়ানো সাধারণ মানুষের কষ্ট আরও বাড়িয়ে দেয়, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তবে একই সঙ্গে পরিবহন মালিকরা তাদের কিছু উদ্বেগের কথাও তুলে ধরেছেন। গণপরিবহন ও পণ্যবাহী যানবাহনের ওপর প্রিজাম্পটিভ আয়কর (এআইটি) দ্বিগুণ করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা। এছাড়া টায়ার, টিউবসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি তাদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
এই প্রেক্ষাপটে, বর্ধিত আয়কর প্রত্যাহার এবং যন্ত্রাংশের দাম কমানোর বিষয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মালিকদের মতে, এসব সমস্যা সমাধান না হলে পরিবহন খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
সভায় আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও ট্যাংকলরির চলাচলে শৃঙ্খলা ফেরাতে একটি উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি যানজট ও দুর্ঘটনা কমানোসহ পরিবহন খাতের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কাজ করবে বলে জানানো হয়।
এছাড়া সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে সব বৈধ পরিবহন সংগঠনকে এর আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিভাগীয় পর্যায়ে সভার মাধ্যমে স্থানীয় সমস্যাগুলো চিহ্নিত ও সমাধানের ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।


