সরকারের সিদ্ধান্তে অস্পষ্টতা ও ‘মুড সুইং’—কঠোর সমালোচনায় হাসনাত আবদুল্লাহ

কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (National Citizens Party)-এর দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বর্তমান সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে এক ধরনের অস্থিরতা, যেখানে নীতিনির্ধারণে স্পষ্টতার ঘাটতি এবং অভ্যন্তরীণ বিভ্রান্তির ইঙ্গিত মিলছে।

রবিবার (৩ মে) সকালে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট (Diploma Engineers Institute)-এ এনসিপির সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত ‘জ্বালানি, অর্থনীতি, সংস্কার ও গণভোট’ শীর্ষক জাতীয় কনভেনশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “আমাদের সরকারের অনেক মুড সুইং হয়। আসলে সরকার কী চায়, সেটি বোঝা যায় না।” তাঁর মতে, এই পরিস্থিতি নীতিনির্ধারণকে দুর্বল করে তুলছে এবং জনমনে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।

তিনি অতীতের প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina)-র সময়ের সঙ্গে তুলনা করেন। তাঁর ভাষায়, “শেখ হাসিনার সময়ে অন্তত বোঝা যেত, শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত কে নিতেন—সব সিদ্ধান্তই তাঁর কাছ থেকে আসত।” অর্থাৎ, তখন কেন্দ্রীভূত হলেও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে একটি স্পষ্টতা ছিল বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।

বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি আরও বলেন, এখন সিদ্ধান্তের উৎস নির্ধারণ করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। “এখন সিদ্ধান্তটা কার—তা পরিষ্কার নয়। মনে হচ্ছে ‘সো মেনি গভর্নমেন্ট’।” তাঁর আশঙ্কা, ভবিষ্যতে কোনো ভুল সিদ্ধান্তের দায় এড়িয়ে যেতে বলা হতে পারে যে প্রধানমন্ত্রীকে ভুল বোঝানো হয়েছে। কিন্তু তিনি প্রশ্ন তোলেন—এই ভুল বোঝানোর পেছনে কারা কাজ করছে?

সরকারের ভেতরে কিছু ‘ফ্রিঞ্জ এলিমেন্ট’-এর উপস্থিতির কথাও উল্লেখ করেন তিনি, যারা নাকি জনআকাঙ্ক্ষা থেকে সরকারকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলছে। তাঁর মতে, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে তা দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্র পরিচালনায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

সংস্কার প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য ছিল আরও স্পষ্ট। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, সচিবালয়ের কাঠামোগত পরিবর্তন এবং পুলিশ সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে সরকার পিছু হটেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। “সরকারের মনে হচ্ছে, সবকিছু নিয়ন্ত্রণে না রাখলে রাষ্ট্র পরিচালনা সম্ভব নয়”—এই মন্তব্যে তিনি বর্তমান শাসনব্যবস্থার মনস্তাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গিরও সমালোচনা করেন।

শেষদিকে তিনি সতর্ক করে বলেন, অতীতে অতিরিক্ত ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ টেকসই হয়নি। “শেখ হাসিনার সময় সবচেয়ে বেশি ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ ছিল। সবকিছু তাঁর ওপর নির্ভরশীল ছিল। তারপরও তিনি টিকে থাকতে পারেননি।” একই পথে বর্তমান সরকার হাঁটলে সেটি দেশের জন্য শুভ সংকেত হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *