প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, কেন হামের টিকা না দেওয়ার ঘটনাটি ঘটেছে, তা বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখা হবে। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, শিশুদের ক্ষতি করার মতো কোনো উদ্দেশ্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ছিল না।
মঙ্গলবার (০৫ মে) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তর (Department of Information)-এ আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। বক্তব্যে তিনি ইঙ্গিত দেন, বিষয়টি অবহেলা নাকি অন্য কোনো কারণে ঘটেছে—তা নির্ধারণে তদন্ত জরুরি।
তিনি বলেন, “শিশু মৃত্যু ঘটাতে চায়—এমন কোনো খারাপ উদ্দেশ্য সরকারের ছিল না বলেই আমি মনে করি। তবে ঘটনাটি কেন ঘটলো, তা আমাদের খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।” এ বিষয়ে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সরকারি কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি জানান, ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী প্রায় ১ কোটি ৬১ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে, যা মোট লক্ষ্যমাত্রার ৮৯ শতাংশ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই শতভাগ টিকাদান নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
এছাড়া স্বাস্থ্য খাতে আন্তর্জাতিক সহায়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। গত বৃহস্পতিবার ঢাকার আগারগাঁওয়ে ২৫০ শয্যার টিবি হাসপাতালে যুক্তরাষ্ট্র (United States) থেকে যক্ষ্মা শনাক্তকরণে ব্যবহারের জন্য ৬ লাখ জিনএক্সপার্ট কার্ট্রিজ এবং ১১ হাজার শিশুর জন্য প্রতিরোধী ওষুধ অনুদান হিসেবে দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, ইউনিসেফ (UNICEF) ও গ্যাভি (Gavi)-এর সহায়তায় হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির জন্য আরও ২২ লাখ মিক্সিং সিরিঞ্জ দেশে পৌঁছেছে বলে জানান তিনি।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করতে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। তবে এখনো তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন, সশস্ত্র বাহিনীর ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা ইতোমধ্যে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পুরোপুরি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপরই রয়েছে।
একইসঙ্গে জঙ্গিবাদ ইস্যুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের সঙ্গে তার নিজের অবস্থানের খুব বেশি পার্থক্য নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি, যা থেকে বোঝা যায় সরকারের ভেতরে এ বিষয়ে সমন্বিত অবস্থান রয়েছে।


