শাপলা চত্বরে ‘গ’ণহ’ত্যা’র ১৩ বছর পূর্ণ হলো আজ। সময়ের ব্যবধানে ঘটনাটি ইতিহাসে স্থান নিলেও, সেই রাতের ক্ষত এখনো বহন করে চলেছেন বহু মানুষ। স্বজন হারানো পরিবারগুলোর শোক থামেনি, থামেনি ন্যায়বিচারের দাবি। এই প্রেক্ষাপটে আবারও বিচারের আওয়াজ তুলেছে হেফাজতে ইসলাম (Hefazat-e-Islam) এবং হতাহতদের স্বজনরা।
২০১৩ সালের সেই রাত—ঢাকার মতিঝিল (Motijheel)-এর শাপলা চত্বর (Shapla Chattar)—বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গভীর অন্ধকার অধ্যায় হয়ে আছে। হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশ চলাকালে চালানো হয় এক নৃশংস অভিযান, যা অনেকের ভাষায় ‘গ’ণহ’ত্যা’ হিসেবে পরিচিত। সেই ঘটনার ভয়াবহতা আজও মানুষের স্মৃতিতে দগদগে হয়ে রয়েছে।
এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বিষয়টি ঘিরে ছিল কঠোর নীরবতা। তৎকালীন আওয়ামী লীগ (Awami League) সরকারের সময়ে সেন্সরশিপ, আতঙ্ক এবং তথ্য নিয়ন্ত্রণের কারণে প্রকৃত ‘নি’হ’ত’ সংখ্যা বা ঘটনার প্রকৃত রূপ প্রকাশ পায়নি জনসমক্ষে। ফলে অনেক প্রশ্নই থেকে গেছে উত্তরহীন।
তবে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে। দীর্ঘদিন চাপা পড়ে থাকা এই ট্র্যাজেডি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সত্য উদঘাটনের পথও কিছুটা হলেও প্রশস্ত হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (International Crimes Tribunal)-এর তদন্ত সংস্থা হেফাজতের ওই সমাবেশে অন্তত ৩২ জনকে ‘হ’ত্যা’র প্রমাণ পেয়েছে। সংস্থাটির দাবি, ঘটনার রাতে পরিকল্পিতভাবে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করে অভিযান চালানো হয় এবং এতে ব্যবহার করা হয় সাউন্ড গ্রেনেডসহ বিভিন্ন প্রাণঘাতী অস্ত্র।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য, ভিডিও ফুটেজ এবং অন্যান্য প্রমাণ ইতোমধ্যে নথিবদ্ধ করা হয়েছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার প্রকৃত চিত্র উদঘাটনের প্রক্রিয়া এখন অনেকটাই এগিয়ে গেছে।
১৩ বছর পরও তাই প্রশ্ন একটাই—এই ঘটনার পূর্ণ সত্য কি প্রকাশ পাবে? আর যারা ‘হ’ত্যা’র শিকার হয়েছেন, তাদের পরিবার কি আদৌ পাবে ন্যায়বিচার?


