বিশ্বমানের শিক্ষা কেন্দ্র গড়ার প্রত্যয়ে—বাংলাদেশকে ‘সেরা এডুকেশন হাব’ বানানোর ঘোষণা শিক্ষামন্ত্রীর

শিক্ষা ও প্রাথমিক গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন দৃঢ়ভাবে বলেছেন, বিশ্বের অন্যতম সেরা শিক্ষা কেন্দ্রে পরিণত হওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় সব সক্ষমতাই ইতোমধ্যে বিদ্যমান। তাঁর ভাষায়, “বাংলাদেশ হবে পৃথিবীর সবচেয়ে সেরা এডুকেশন হাব। আমাদের সেই রিসোর্স রয়েছে, আমাদের সেই মেধা রয়েছে, আমাদের সেই প্রোগ্রাম রয়েছে, আমাদের সেই ইচ্ছা রয়েছে।” তবে এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া পথ নেই বলেও তিনি সতর্ক করেন।

মঙ্গলবার (৫ এপ্রিল) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘উচ্চশিক্ষায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা, ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা ও জাতীয় লক্ষ্য অর্জনে যৌথ কর্মপরিকল্পনা’ শীর্ষক আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা তুলে ধরেন।

শিক্ষামন্ত্রী অতীতের শিক্ষা নেতৃত্বের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, জিয়াউর রহমান (Ziaur Rahman) স্বল্প সময়ের জন্য শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেও উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। তাঁর মতে, মাত্র ১৬ দিনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে যে কাজ সম্পন্ন হয়েছিল, তা ১৬ বছরেও অর্জন করা কঠিন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বেগম খালেদা জিয়া (Begum Khaleda Zia) শিক্ষার উন্নয়নে গভীর আগ্রহ দেখিয়েছিলেন এবং শিক্ষাকে কেন্দ্র করে তাঁর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছিল। পাশাপাশি বর্তমান সরকারের নেতৃত্বও শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে শিক্ষা একাধিকবার উচ্চারিত একটি মূল অগ্রাধিকার—“শিক্ষা, শিক্ষা এবং শিক্ষা।”

বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে সমন্বিত উদ্যোগের বিকল্প নেই বলে জোর দেন তিনি। বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজগুলোকে আকৃষ্ট করার পরিকল্পনাও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে বলে জানান। অতীতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই সম্ভাবনাকে পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব।

বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ শেষে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখার প্রবণতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন শিক্ষামন্ত্রী। একইসঙ্গে, নীতিনির্ধারণে স্টেকহোল্ডারদের মতামতকে প্রাধান্য দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন। তাঁর মতে, অংশীজনদের মতামত ছাড়া টেকসই সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্ভব নয়।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আর্থিক ব্যবস্থাপনা, স্কলারশিপ প্রদান এবং ট্রাস্টভিত্তিক পরিচালনা কাঠামো পর্যালোচনার কথাও জানান তিনি। দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নে সরকারের প্রতিশ্রুতি রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং মামুন আহমেদ (Mamun Ahmed), চেয়ারম্যান, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (University Grants Commission – UGC)।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি (এপিইউবি)-এর সভাপতি মো. সবুর খানের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি (North South University)-এর উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী এবং ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয় (East West University)-এর উপাচার্য অধ্যাপক শামস রহমান।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *