সৌদি আরব থেকে ১ লাখ টন ক্রুড তেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে মাস্টার ট্যাঙ্কার, স্বস্তির আভাস জ্বালানি খাতে

সৌদি আরব থেকে এক লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল বহনকারী ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের একটি মাস্টার ট্যাঙ্কার চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছেছে, যা দেশের জ্বালানি খাতে সাম্প্রতিক সংকটের প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ এক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। বুধবার (৬ মে) সকালে ট্যাঙ্কারটি বন্দরের কুতুবদিয়া বহির্নোঙরে এসে নোঙর করে।

বন্দর সংশ্লিষ্ট আনুষ্ঠানিকতা শেষে কাস্টমস ও সার্ভেয়ার প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধানে জাহাজটি থেকে ধাপে ধাপে ছোট ট্যাংকারে করে তেল খালাস করা হবে। এই লাইটারিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তেল পৌঁছে দেওয়া হবে পতেঙ্গায় অবস্থিত ইস্টার্ন রিফাইনারি (Eastern Refinery)-তে। সেখানে পরিশোধনের পর এই জ্বালানি সারা দেশে সরবরাহ করা হবে।

বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (Bangladesh Shipping Corporation)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক জানান, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের পর এটিই প্রথম ক্রুড অয়েলের চালান যা দেশে পৌঁছেছে। এর আগে দেশে অপরিশোধিত তেলের মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় গত ১২ এপ্রিল রাতে ইস্টার্ন রিফাইনারির ক্রুড অয়েল ডিস্টিলেশন ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়, যা জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি করেছিল।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (Bangladesh Petroleum Corporation) সূত্রে জানা যায়, ট্যাঙ্কারটি সৌদি আরবের লোহিত সাগর তীরবর্তী ইয়ানবু বন্দর থেকে ২১ এপ্রিল সকাল ৬টায় যাত্রা শুরু করে। তার আগে রাতভর তেল লোডিং কার্যক্রম চলে। জাহাজটি নিরাপদে রেড জোন অতিক্রম করে নির্ধারিত সময়েই বাংলাদেশে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে।

এদিকে ভবিষ্যৎ সরবরাহ নিশ্চিতে আরও পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ফুজাইরা থেকে অতিরিক্ত এক লাখ টন ক্রুড তেল আনতে ‘এমটি ফসিল’ নামের আরেকটি জাহাজ পাঠানো হয়েছে। এটি ৯ মে বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে এবং ১০ মে তেল লোড করে পুনরায় বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করবে।

রাষ্ট্রায়ত্ত ইস্টার্ন রিফাইনারি বছরে প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিশোধন করে, যা দেশের মোট ৭২ লাখ টন বার্ষিক চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ পূরণ করে। বাকি ৯২ শতাংশ জ্বালানি তেল আমদানির মাধ্যমে পূরণ করতে হয়। মাত্র ৮ শতাংশ স্থানীয় উৎস ও কনডেনসেট প্রক্রিয়াজাত করে পাওয়া যায়।

দেশের জ্বালানি চাহিদার তালিকায় ডিজেল সর্বোচ্চ স্থানে রয়েছে। এরপর রয়েছে ফার্নেস অয়েল, পেট্রোল, অকটেন, কেরোসিন এবং বিমান চলাচলের জন্য ব্যবহৃত জেট ফুয়েল—যা সামগ্রিক জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *