জামায়াতে ইসলামী (Jamaat-e-Islami) কোনো সন্ত্রাসী সংগঠন নয় এবং তারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নয় বলে রায় দিয়েছে কানাডার ইমিগ্রেশন অ্যান্ড রিফিউজি বোর্ড (Immigration and Refugee Board of Canada)। প্রতিষ্ঠানটি কানাডা (Canada) সরকারের আনা অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছে, যা কানাডার বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সি (Canada Border Services Agency) ২০২২ সালে তুলেছিল।
দুই বছর ধরে চলা আইনি লড়াইয়ের পর রায়
দীর্ঘ দুই বছর ধরে চলা এই মামলায় সিবিএসএ দাবি করেছিল, জনৈক রহমান (Rahman) নামের এক ব্যক্তি জামায়াতে ইসলামী সদস্য (রোকন) হওয়ার কারণে তিনি কানাডায় প্রবেশের অনুপযুক্ত। কারণ, সংস্থাটির মতে, জামায়াত সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে জড়িত। তবে, ট্রাইব্যুনাল এই অভিযোগ সম্পূর্ণরূপে খারিজ করেছে।
রায়ের গুরুত্ব ও প্রভাব
এই রায় শুধুমাত্র ওই ব্যক্তির জন্যই নয়, বরং জামায়াতে ইসলামীর সুনামের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। ট্রাইব্যুনাল দুটি পূর্ণাঙ্গ দিবস এবং অতিরিক্ত আরও আড়াই দিন শুনানি পরিচালনা করে। মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা করে এবং আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ ও দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের সাক্ষ্য গ্রহণ করে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছায় আদালত।
রায়ের মূল পর্যবেক্ষণ
✅ সন্ত্রাসবাদের কোনো প্রমাণ নেই – আদালত জানিয়েছে, জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগের কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ নেই।
✅ বিশেষজ্ঞদের সাক্ষ্যগ্রহণ – তিনজন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত গবেষক সন্ত্রাসবাদ, দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক আন্দোলন ও ইসলামী সংগঠনগুলোর বিষয়ে শপথ নিয়ে সাক্ষ্য দেন, যা নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য বলে প্রমাণিত হয়।
✅ রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডার শিকার – ট্রাইব্যুনাল জানিয়েছে, জামায়াতে ইসলামী দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগের শিকার হয়ে আসছে এবং কিছু মহল দীর্ঘদিন ধরে প্রোপাগান্ডা চালিয়ে আসছে।
✅ আইনের শাসনের প্রতি প্রতিশ্রুতি – আদালত রায়ে উল্লেখ করেছে, কোনো সংগঠনকে শুধুমাত্র রাজনৈতিক চাপ বা বিদেশি সরকারের বক্তব্যের ভিত্তিতে সন্ত্রাসী ঘোষণা করা যায় না।
আইনি লড়াইয়ে জামায়াতে ইসলামী বিজয়ী
মামলায় জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে আইনজীবী ব্যারিস্টার ওয়াশিম আহমেদ (Washim Ahmed) বলেন, “এ রায় জামায়াতে ইসলামীর আইনি মর্যাদা পাওয়ার ক্ষেত্রে একটি বড় বিজয়। এটি স্পষ্ট করে দেয় যে, অভিযোগগুলোর ভিত্তি হতে হবে বাস্তব প্রমাণ ও নিরপেক্ষ মূল্যায়নের ওপর, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দৃষ্টিভঙ্গির ওপর নয়।”
২০২৪ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি দেওয়া লিখিত সিদ্ধান্তে আদালত রহমানকে সম্পূর্ণরূপে নির্দোষ ঘোষণা করেছে এবং সিবিএসএর সমস্ত অভিযোগ খারিজ করেছে।
ভবিষ্যতে নজির স্থাপন করবে এই রায়
এই রায় ভবিষ্যতে অনুরূপ মামলাগুলোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে কাজ করবে। কারণ, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে অনেক সময় সন্ত্রাসবাদের মিথ্যা অভিযোগ এনে তাদের হেনস্তা করা হয়।