যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক হার ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩৭ শতাংশ করার ঘোষণা দিয়েছেন। স্থানীয় সময় বুধবার হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই নতুন শুল্ক কাঠামো প্রকাশ করেন।
বিভিন্ন দেশের ওপর নতুন শুল্ক হার
এই ঘোষণার আওতায় অন্যান্য দেশের পণ্যেও শুল্ক বৃদ্ধি করা হয়েছে। ভারতের পণ্যের ওপর ২৬ শতাংশ, পাকিস্তানের ২৯ শতাংশ, চীনের ৩৪ শতাংশ, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২০ শতাংশ, মিয়ানমারের ৪৪ শতাংশ, ভিয়েতনামের ৪৬ শতাংশ, শ্রীলঙ্কার ৪৪ শতাংশ, তাইওয়ানের ৩২ শতাংশ, জাপানের ২৪ শতাংশ, দক্ষিণ কোরিয়ার ২৫ শতাংশ, থাইল্যান্ডের ৩৬ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়ার ৩২ শতাংশ, মালয়েশিয়ার ২৪ শতাংশ, যুক্তরাজ্যের ১০ শতাংশ, দক্ষিণ আফ্রিকার ৩০ শতাংশ, ব্রাজিলের ১০ শতাংশ, ইসরাইলের ১৭ শতাংশসহ আরও অনেক দেশের পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়ানো হয়েছে।
‘অর্থনৈতিক স্বাধীনতা দিবস’ ঘোষণা
ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন শুল্ক বৃদ্ধির ঘোষণাকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, “আজকের দিনটিকে আমেরিকান শিল্পের পুনর্জন্ম এবং আমেরিকাকে আবার সম্পদশালী করার দিন হিসেবে স্মরণ করা হবে।”
গাড়ি আমদানির ওপর অতিরিক্ত শুল্ক
যুক্তরাষ্ট্রে সব ধরনের বিদেশি গাড়ি আমদানির ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন ট্রাম্প। তিনি উল্লেখ করেন, জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়ায় উৎপাদিত গাড়ির অধিকাংশ নিজ দেশেই বিক্রি হয়, ফলে আমেরিকান গাড়ির বাজার সেসব দেশে সংকুচিত।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব
বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি বাজার যুক্তরাষ্ট্র, যেখানে বছরে প্রায় ৮.৪ বিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়। তবে, গত বছর এই রপ্তানি কমে ৭.৩৪ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। নতুন শুল্ক বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।