ভারতীয় মুসলিমদের অধিকার নিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থান নেওয়ার আহ্বান সাইয়েদ আবদুল্লাহর

ভারতের পার্লামেন্টে ওয়াকফ (Waqf) সম্পর্কিত একটি বিতর্কিত বিল পাশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও সাইয়েদ আবদুল্লাহ (Sayed Abdullah)। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (University of Dhaka) আইন বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী। এক ফেসবুক পোস্টে তিনি ভারত সরকারের বিরুদ্ধে মুসলিম সংখ্যালঘুদের অধিকার খর্ব করার অভিযোগ তোলেন এবং এ বিষয়ে বাংলাদেশের সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানানোর আহ্বান জানান।

মুসলিমদের অধিকার খর্বের অভিযোগ

সাইয়েদ আবদুল্লাহর দাবি, ভারত সরকার ওয়াকফ সম্পর্কিত যেই নতুন বিলটি দ্রুত আইন হিসেবে কার্যকর করতে যাচ্ছে, সেটিতে রয়েছে মুসলমানদের পবিত্র দানকৃত সম্পত্তি তথা ওয়াকফ সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে নানা বিতর্কিত ধারা। বিশেষ করে, ওয়াকফ বোর্ডে অমুসলিম সদস্য অন্তর্ভুক্তির বিধানটি নিয়ে উঠেছে গুরুতর আপত্তি।

এই বিলটির ফলে ভারতে মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় এবং সামাজিক অধিকার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মনে করেন অনেকে। সাইয়েদ আবদুল্লাহর মতে, বিষয়টি নিয়ে শুধু মুসলিম সম্প্রদায়ই নয়, বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোও ইতোমধ্যে প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেছে।

বাংলাদেশ সরকারের ভূমিকায় প্রশ্ন

ভারতের এমন পদক্ষেপের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সাইয়েদ আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, “ভারত যেহেতু বাংলাদেশকে সংখ্যালঘু ইস্যুতে প্রায়ই শিক্ষা দিতে চায়, বাংলাদেশেরও এখন উচিত ভারতে মুসলিম সংখ্যালঘুদের অধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কূটনৈতিক প্রতিবাদ জানানো।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিমসটেক সম্মেলনের সাইডলাইন মিটিংয়ে ব্যাংককের সাংগ্রিলা হোটেলে (Shangri-La Hotel) ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসকে সংখ্যালঘু বিষয়ক ‘বিশেষ উদ্বেগ’ প্রকাশ করেছিলেন। সেই ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “তারা যেভাবে বারবার সংখ্যালঘু প্রসঙ্গ তোলে, তাতে স্পষ্ট বোঝা যায় বিষয়টি তারা সবসময় চাঙা রাখতে চায়। অথচ তাদের নিজেদের দেশেই সংখ্যালঘু সম্প্রদায় নিরাপদ নয়।”

কূটনৈতিক জবাব দেওয়ার আহ্বান

সাইয়েদ আবদুল্লাহ জোর দিয়ে বলেন, “ভারতের এই হীন চক্রান্তের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের উচিত শক্তভাবে অফিসিয়াল স্টেটমেন্ট দেওয়া। চোখে চোখ রেখে কূটনৈতিক জবাব না দিলে, ভারতের এই অতিসক্রিয়তা কোনোদিনই থামবে না।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *