রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুতে সাম্প্রতিক উত্তাপ ও বিতর্ক নিয়ে গভীর বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন রনি আসফকে (Ronnie Asfqe)। বিশেষ করে ড. খলিলের অবস্থান এবং সেটিকে ঘিরে কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে তাঁর পর্যবেক্ষণ এই আলোচনাকে আরও অর্থবহ করে তুলেছে। নিচের লেখাটিতে তিনি বাস্তবতা, ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং সম্ভাব্য কূটনৈতিক পথ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু পয়েন্ট তুলে ধরেছেন।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে ডঃ খলিল আজকে যে হাইপ প্রপাগেট করলেন, আমি এটাকে তাঁর স্ট্রেটেজিক মুভ ধরে নিচ্ছি। এই মুভের রেজাল্ট কি হবে তা এখন বলা মুশকিল। আমি যদি ঠিক মতো বুঝে থাকি, তাহলে ঢাকাকে বোল্ড মুভের জন্য প্রস্তুত হতে হবে।
হাইপ থেকে একটু রিয়েলিটিতে আসা যাক।
পুরনো ও নতুন (২০১৭ সালে আসা) মিলিয়ে বাংলাদেশে আনুমানিক ১৪ লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করছে। ২০১৮-২০ সালে বাংলাদেশ ৮ লাখ রোহিঙ্গাদের লিস্ট মিয়ানমার সরকারের কাছে রিপারট্রিয়েশন জন্য দিয়েছিলো। সে সময় তাঁরা ভ্যারিফিকেশনের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের ফেরত নেবে বলে বাইলেটারাল চুক্তি করেছিলো। বাস্তবতা হচ্ছে, গত ৭ বছরে ১ জন রোহিংগাও ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি।
১। মিয়ানমারের সামরিক সরকার আজ যে ১৮০,০০০ ভ্যারিফাইড রোহিঙ্গার কথা বলেছে, তাদের কি ফেরত পাঠানো যাবে?
– না যাবে না। রোহিঙ্গারা যে রাখাইন স্টেইট থেকে এসেছে, সে স্টেইটের ৯০% অঞ্চল এখন রাখাইন সশস্ত্র সংগঠন আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে। রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে হলে বাংলাদেশকে আরাকান আর্মির সাথে আলাপ করতে হবে।
২। আরাকান আর্মি কি রোহিঙ্গাদের ফেরত নেবে?
– এখন পর্যন্ত তেমন কোন লক্ষণ নেই। বাংলাদেশ ২০১৫ সাল থেকে ট্র্যাক টু তে আরাকান আর্মির যোগাযোগ করছে। দীর্ঘ এই যোগাযোগের অভিজ্ঞতা থেকে বাংলাদেশি স্টেইকহোল্ডার ও ইন্টারলোকেটররা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আরাকান আর্মির কোন স্বদিচ্ছা নেই। তাঁরা এখন পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে বা প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে কোন পরিকল্পনা পাবলিকলি বা প্রাইভেটলি উপস্থাপন করেনি। আরাকান আর্মি মনে করে রোহিঙ্গারা “বাঙ্গালী”। তাই তাঁরা “রোহিঙ্গা” টার্মটি একসেপ্ট করে না।
৩। রোহিঙ্গাদের কি ডিপ্লোম্যাসির মাধ্যমে ফেরত পাঠানো যাবে?
– গ্রাউন্ড অপারেটর, মিয়ানমার এক্সপার্ট ও রোহিঙ্গা একটিভিস্টরা মনে করে না শুধু ডিপ্লোম্যাসির মাধ্যমে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সম্ভব।
৪। রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে কি করতে হবে?
– রোহিঙ্গাদের এমপাওয়ার করতে হবে।
– রাখাইন ও রোহিঙ্গাদের মধ্যে ট্রাস্ট বিল্ডাপের জন্য উদ্যোগ নিতে হবে।
– রাখাইন ও রোহিঙ্গাদের স্ক্লেইলেব এনগেইজমেন্ট এনশিউর করতে হবে।
৫। বাংলাদেশ সরকার কি এসব জানে না?
– অবশ্যই জানে। মোফা, ডিফেন্স এপারাটাস, পলেটিকাল স্টাবলিশমেন্ট খুব ভালো করেই জানে কি করত হবে ও কিভাবে করতে হবে।
৬। করছে না কেন?
– আগের গভঃ এই ক্রাইসিস থেকে পলেটিকালি বেনিফিটেড হতে চেয়েছে। এখনকার গভঃ কি চায় তা বুঝতে আরো কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে।
ফেসবুক পোষ্ট থেকে সংগৃহীত