সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবিত অধিকাংশ সংস্কারের সঙ্গে একমত হয়েছে বিএনপি (BNP)। দলটির মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিভিন্ন কমিশনের সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে দলের দৃষ্টিভঙ্গি ও অবস্থান তুলে ধরতে একটি অনলাইন ক্যাম্পেইন চালানো হচ্ছে।
অনলাইন প্রচারে বিএনপির বার্তা
গতকাল বিএনপির অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে এক পোস্টে জানানো হয়, ড. মুহাম্মদ ইউনূস (Dr. Muhammad Yunus) নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবিত অধিকাংশ সংস্কারে দলের সমর্থন রয়েছে। প্রচার ক্যাম্পেইনে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, কোন প্রস্তাবগুলোর সঙ্গে বিএনপি পুরোপুরি একমত, কোনগুলোর সঙ্গে নীতিগতভাবে একমত, আর কোনগুলোর সঙ্গে একমত হয়নি।
কমিশনভিত্তিক বিএনপির অবস্থান
- **দুর্নীতি দমন কমিশন (Anti-Corruption Commission) ২০টি সুপারিশের মধ্যে ১৯টির সঙ্গেই একমত বিএনপি।
- বিচার বিভাগ সংস্কার: ২৩টি সুপারিশের মধ্যে ২০টির সঙ্গে একমত বা নীতিগতভাবে সহমত।
- জনপ্রশাসন সংস্কার: ২৬টি প্রস্তাবের মধ্যে ৫৪ শতাংশের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব।
- নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার: বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নিয়োগসহ ৫৬ শতাংশ প্রস্তাবে সমর্থন।
- সংবিধান সংস্কার: বাস্তবভিত্তিক ও দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য প্রস্তাবগুলোকে সমর্থন, উচ্চাভিলাষী, পরীক্ষামূলক এবং নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্নকারী প্রস্তাবগুলোর বিরোধিতা করছে দলটি।
সমর্থন ও আপত্তির ক্ষেত্রসমূহ
বিএনপির ভাষ্য অনুযায়ী, বাস্তবভিত্তিক ও দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য প্রস্তাবগুলোকে সমর্থন করছে দলটি। তবে যেসব প্রস্তাব নাগরিক অধিকার হরণ করে, প্রশাসনিক অচলাবস্থা তৈরি করে বা নাগরিক সেবা ব্যাহত করে—সেসব বিষয়ে দ্বিমত রয়েছে। সংবিধান সংস্কার কমিশনের উচ্চাভিলাষী ও পরীক্ষামূলক প্রস্তাবগুলোর বিরোধিতাও করা হয়েছে।
অতীতের অভিজ্ঞতা
বিএনপির মিডিয়া সেল জানায়, সংসদে দুজন ডেপুটি স্পিকারের মধ্যে একজন বিরোধী দল থেকে মনোনীত করার প্রস্তাব ২০০১ সালে তারা বিজয়ের পরই দিয়েছিল। কিন্তু সে সময়ের বিরোধী দল সেই প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি।
ইতিবাচক মনোভাবের পরিসংখ্যান
মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিচার বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশন ও জনপ্রশাসনসহ বিভিন্ন খাতে সংস্কার নিয়ে দলের ইতিবাচক মনোভাব এই পরিসংখ্যান থেকেই স্পষ্ট।