ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সারাদেশে মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে এখন চলছে আপিল কার্যক্রম। সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে আপিল কেন্দ্র পরিদর্শনে এসে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন (A M M Naser Uddin) বলেন, “পরিবেশ ভালো আছে। আমরা বিশ্বাস করি, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারব।”
সিইসি সাংবাদিকদের জানান, নির্বাচন কমিশন প্রার্থীদের আপিল গ্রহণের জন্য নির্বাচন ভবন চত্বরে ১০টি বুথ চালু করেছে, যাতে সংক্ষুব্ধ প্রার্থীরা তাদের আপিল সঠিক প্রক্রিয়ায় দাখিল করতে পারেন।
গত রবিবার ছিল মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের শেষ দিন। এবার ৩০০টি আসনের মধ্যে ৭২৩টি মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। বাতিল হওয়া প্রার্থীরা ৫ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারির মধ্যে আপিল করতে পারবেন। এরপর নির্বাচন কমিশন আপিলগুলোর নিষ্পত্তি করবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২০ জানুয়ারি।
আপিল করার নিয়মাবলি
প্রার্থিতা ফিরে পেতে নির্বাচনী আপিল করতে হলে প্রার্থীদের মোট ৭টি নির্দেশনা মেনে চলতে হবে:
-
আপিল আবেদনে নির্বাচন কমিশনকে সম্বোধন করে স্মারকলিপি আকারে নির্ধারিত ফরমেটে আবেদন করতে হবে।
-
আবেদনপত্রে মনোনয়নপত্র বাতিল বা গ্রহণের তারিখ, আপিলের কারণ, এবং সংশ্লিষ্ট আদেশের সত্যায়িত কপি সংযুক্ত করতে হবে।
-
মূল কপিসহ সর্বমোট সাতটি কপি জমা দিতে হবে।
-
স্ব-স্ব অঞ্চলের নির্ধারিত বুথে আপিল আবেদন দাখিল করতে হবে।
-
৫ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারির মধ্যে আবেদন জমা দিতে হবে।
-
আপিলের রায়ের কপির জন্য নির্ধারিত ফরমে পৃথক আবেদন দাখিল করতে হবে, যা আপিল কেন্দ্র থেকে সংগ্রহ করা যাবে।
-
আপিল দায়েরকারী নিজে অথবা তার মনোনীত প্রতিনিধি রায়ের কপি সংগ্রহ করতে পারবেন।
১০ অঞ্চলের জন্য আলাদা বুথ
নির্বাচন কমিশন এলাকাভিত্তিকভাবে ১০টি বুথ নির্ধারণ করেছে:
১ নম্বর বুথ (খুলনা অঞ্চল) – মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, যশোর, মাগুরা, নড়াইল, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা।
২ নম্বর বুথ (রাজশাহী অঞ্চল) – জয়পুরহাট, বগুড়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, রাজশাহী, নাটোর, সিরাজগঞ্জ, পাবনা।
৩ নম্বর বুথ (রংপুর অঞ্চল) – পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা।
৪ নম্বর বুথ (চট্টগ্রাম অঞ্চল) – চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান।
৫ নম্বর বুথ (কুমিল্লা অঞ্চল) – ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, চাঁদপুর, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর।
৬ নম্বর বুথ (সিলেট অঞ্চল) – সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ।
৭ নম্বর বুথ (ঢাকা অঞ্চল) – টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, ঢাকা, গাজীপুর, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ।
৮ নম্বর বুথ (ময়মনসিংহ অঞ্চল) – জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোণা।
৯ নম্বর বুথ (বরিশাল অঞ্চল) – বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, ঝালকাঠি, পিরোজপুর।
১০ নম্বর বুথ (ফরিদপুর অঞ্চল) – রাজবাড়ী, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর।
প্রার্থীরা তাদের নিজ নিজ অঞ্চলের বুথে উপস্থিত হয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আপিল জমা দিতে পারবেন।
নির্বাচন কমিশন বলছে, নির্বাচন নিয়ে আপিল ও পুনঃবিবেচনার এই প্রক্রিয়া সুষ্ঠু ভোটের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যথাযথভাবে এই প্রক্রিয়া অনুসরণ করলেই প্রত্যাশিত নির্বাচনি পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব।


