দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর বরিশালে আসছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান (Tarique Rahman)। তবে পূর্বনির্ধারিত সময়ের একদিন পরিবর্তন এনে তাঁর নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৭ জানুয়ারি বরিশাল নগরীর ঐতিহাসিক বেলস্ পার্ক মাঠে। সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন তিনি।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে জনসভাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে এ তথ্য জানান বরিশাল সদর আসনে বিএনপি মনোনীত ধা’\নের শী’\ষ প্রতীকের প্রার্থী ও তারেক রহমানের উপদেষ্টা মজিবর রহমান সরোয়ার (Mojibur Rahman Sarwar)।
তিনি বলেন, “দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর পর আমাদের নেতা তারেক রহমান বরিশাল আসছেন—এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। তাঁর আগমন কেন্দ্র করে পুরো বরিশালে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে। দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাঁকে বরণ করার জন্য।”
জনসভাকে কেন্দ্র করে মঞ্চ নির্মাণ, প্রচার-প্রচারণা এবং স্থানীয় পর্যায়ে সাংগঠনিক প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে বলে জানান সরোয়ার। তিনি বলেন, “জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত এবং বেগম খালেদা জিয়ার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে তারেক রহমান বরিশালে নতুন বার্তা দেবেন। সেই বক্তব্য শুধু আমাদের জন্য নয়, বরিশালবাসীর জন্যও দিকনির্দেশনা হয়ে থাকবে।”
বরিশালে তারেক রহমানের সর্বশেষ সফর ছিল ২০০৬ সালে। তখন তিনি ছিলেন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব। এবারের সফরটি আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ তিনি এবার আসছেন বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নে মজিবর রহমান সরোয়ার জানান, “গতকাল বৃহস্পতিবার আমরা আমাদের প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছি, শুক্রবার সাহেবেরহাটে লিফলেট বিতরণ করেছি। জনগণের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যাচ্ছে।”
প্রশাসনের পক্ষপাতিত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তিনি বলেন, “বিগত নির্বাচনে প্রশাসন আমাদের নির্বাচন করতে দেয়নি। এমনও হয়েছে যে স্পিডবোট থেকে আমাদের কর্মীদের নামিয়ে নিয়েছে। এবার আমরা চাই শান্তিপূর্ণ ভোট, কোনো কারচুপি নয়। কিন্তু যারা নিজেদের আলেম-ওলামা বলে দাবি করেন, তাঁদের মুখে যে কু-কথা শুনি—তা সত্যিই হতবাক করে।”
জনসভাস্থল পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন, বরিশাল মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুক, সদস্য সচিব জিয়াউদ্দিন সিকদারসহ দলের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
বিএনপি নেতাদের মতে, তারেক রহমানের এই সফরের মাধ্যমে বরিশাল অঞ্চলে দলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সঞ্চার হবে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে দলের প্রতি আস্থা আরও দৃঢ় হবে।


