টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের বাদ পড়া অবশেষে আনুষ্ঠানিক হয়ে গেল। ভারতে খেলতে অস্বীকৃতি জানানোর পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)–কে বাদ দিয়ে বাংলাদেশের জায়গায় স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করেছে আইসিসি (ICC)। শুক্রবার সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করে বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
আইসিসি প্রধান নির্বাহী সংযোগ গুপ্তা একটি চিঠিতে বোর্ড সদস্যদের জানান, বাংলাদেশের দাবি আইসিসি’র নীতিমালার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। বিসিবি বোর্ডের সিদ্ধান্ত মানছে না—এমন অবস্থায় বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে সুযোগ দেওয়াই একমাত্র বিকল্প ছিল। এই চিঠির অনুলিপি বিসিবি সভাপতি ও আইসিসি বোর্ড সদস্য আমিনুল ইসলামের কাছেও পাঠানো হয়েছে।
বাংলাদেশের সিদ্ধান্তের পেছনে মূল কারণ—ভারতে নিরাপত্তা শঙ্কা। ৩ জানুয়ারি আইপিএল থেকে মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিসিবি প্রশ্ন তোলে, “একজন খেলোয়াড়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করতে পারলে পুরো দল, সমর্থক ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করবে ভারত?” ফলে তারা বিশ্বকাপের ভেন্যু শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তরের দাবি জানায়। কিন্তু আইসিসি’র বোর্ড সভায় ভোটাভুটিতে বেশিরভাগ সদস্য দেশ ভেন্যু পরিবর্তনের বিপক্ষে অবস্থান নেয়। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত আসে—বাংলাদেশকে বাদ দেওয়া হবে।
এখন বাংলাদেশের পরিবর্তে ‘সি’ গ্রুপে খেলবে স্কটল্যান্ড। তারা ৭ ফেব্রুয়ারি ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ৯ ফেব্রুয়ারি ইতালি এবং ১৪ ফেব্রুয়ারি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কলকাতায় মাঠে নামবে। এরপর ১৭ ফেব্রুয়ারি মুম্বইয়ে নেপালের বিপক্ষে খেলবে তারা।
বিষয়টি ঘিরে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) থেকে এসেছে কড়া প্রতিক্রিয়া। লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে এক সংবাদ সম্মেলনে পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি বলেন, “বিশ্বকাপ বয়কট করা সরকারের সিদ্ধান্ত। আমরা আইসিসি নয়, পাকিস্তান সরকারের প্রতি অনুগত। সরকার যদি না বলে, আমরা খেলব না।”
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের দাবি ছিল যৌক্তিক। কিন্তু আইসিসি তা গ্রহণ করেনি। আমরা চাইলে আমাদের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় হতে পারে। যদি পাকিস্তান বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ায়, তবে আইসিসি ২২তম দল নিয়ে আসুক।”
নাকভি অভিযোগ করেন, “আইসিসি’র সিদ্ধান্তে ভারতের চাপ রয়েছে। আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ একই সঙ্গে বিসিসিআইয়ের সচিব ছিলেন—এই দ্বৈত ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। পাকিস্তান কিংবা বাংলাদেশের মতো পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে সমান আচরণ করা উচিত। ভারতের পছন্দমতো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হলে আমরা সেটি মেনে নেব না।”
বিসিবির এক পরিচালক বলেন, “আমরা এখনো স্কটল্যান্ডকে নেওয়ার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মেইল পাইনি। আমাদের চাওয়া, বাংলাদেশ বিশ্বকাপ খেলুক। সভাপতিকে শেষবারের মতো চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছি।”
বিশ্বকাপ বর্জনের পরিণতি, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং ক্রিকেটীয় রাজনীতিতে ভারতের ভূমিকা—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। পাকিস্তান এখন সরকারের সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করছে, আর বিসিবি সভাপতির শেষ চেষ্টা ফলপ্রসূ না হলে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করার সম্ভাবনা একেবারেই শেষ হয়ে যাবে।


