অতীতের ভুলের জন্য দুঃখপ্রকাশ করে ভোট চাইলেন তারেক রহমান

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬ উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও বাংলাদেশ বেতারে সরাসরি সম্প্রচারিত ভাষণে তিনি অতীতের ভুল-ত্রুটির জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখপ্রকাশ করেন এবং দেশের জনগণের সমর্থনে ধানের শীষে ভোট চান।

তারেক রহমান বলেন, “দেশে পুনরায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হবে—এটা আমার অঙ্গীকার, বিএনপির অঙ্গীকার। অতীতে রাষ্ট্র পরিচালনার সময় আমাদের কিছু অনিচ্ছাকৃত ভুল-ত্রুটি হয়েছে। আমি সেজন্য আন্তরিকভাবে দুঃখপ্রকাশ করছি।”

তিনি জানান, বিদেশ থেকে ফিরে স্বল্প সময়ের মধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে মানুষের কাছে পৌঁছাতে চেষ্টা করেছেন এবং সেখান থেকে ভালোবাসা ও সমর্থন পেয়েছেন। সেই ভালোবাসার প্রতিদান দিতে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে আবারও জনগণের আস্থা ও সমর্থন চান তিনি।

ভাষণে তিনি উল্লেখ করেন, “জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত না হলে উন্নয়ন ও গণতন্ত্র টেকসই হতে পারে না। নাগরিকদের দুর্বল রেখে রাষ্ট্র শক্তিশালী হয় না। তাই রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতা জনগণের হাতে ফিরিয়ে দিতে হবে।”

তারেক রহমান রাষ্ট্রীয় কাঠামোর রূপরেখা তুলে ধরে বলেন, “জনগণের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে স্থানীয় সরকার পর্যায়ে সরাসরি ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা দলের হাতে ক্ষমতা কুক্ষিগত থাকলে একটি রাষ্ট্র কখনও শক্তিশালী হতে পারে না।”

তিনি জবাবদিহিতার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহিতার কোনো বিকল্প নেই। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। ইনশাআল্লাহ, বিএনপি সরকার দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ কঠোরতা অবলম্বন করবে।”

পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, “দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার হয়েছে। এই সম্পদ ফিরিয়ে আনতে পারলে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড ও বেকার ভাতা কার্যক্রম বাস্তবায়নে আর কোনো ঘাটতি থাকবে না।”

তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, “আমরা এমন এক রাষ্ট্র গড়তে চাই, যেখানে শাসকরা নিজেদের মালিক নয়, জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করবে। আমাদের লড়াই কেবল ক্ষমতা দখলের নয়, বরং রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণের হাত থেকে মুক্ত করে জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার।”

তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বেকারত্ব দূরীকরণ ও মেধাবীদের মূল্যায়ন বিএনপির অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হবে। পাশাপাশি, প্রশাসন চালাতে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো কেবলমাত্র সংবিধান মোতাবেক পরিচালিত হবে বলেও জানান তিনি।

তারেক রহমান তার ভাষণে একটি মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের জন্য দেশবাসীর সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *