কুমিল্লা-১১: জামায়াত নেতা তাহেরের মঞ্চে ভোট চাওয়া সেই আওয়ামী লীগ নেতা সালাউদ্দিন যোগ দিলেন বিএনপিতে

কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনের আলোচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সালাহউদ্দিন মজুমদার আবার ফিরলেন নিজের ‘পুরোনো ঘর’—বিএনপিতে। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিএনপি প্রার্থী কামরুল হুদার নির্বাচনী জনসভায় অংশ নিয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দেন। এই যোগদান এমন সময় এলো, যখন কিছুদিন আগেই জামায়াত প্রার্থী ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের সমাবেশে গিয়ে তার পক্ষে বক্তব্য দেওয়ায় তিনি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন।

জনসভায় উপজেলা বিএনপির প্রধান উপদেষ্টা কাজী নাসিম ও ধানের শীষের প্রার্থী কামরুল হুদার হাতে ফুল দিয়ে সালাহউদ্দিন বিএনপিতে যোগদান করেন। এ সময় বক্তব্যে তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন বিএনপির সঙ্গেই ছিলাম। ১৫ বছর কালিকাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। ২০১১ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত চেয়ারম্যান ছিলাম, তখনও ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি।”

তিনি আরও বলেন, “২০১৬ সালে বিএনপি করার কারণেই আমার কাছ থেকে চেয়ারম্যান পদ কেড়ে নেওয়া হয়। এরপর সাবেক রেলমন্ত্রী মুজিবুল হকের সুবিধার জন্য আমাকে কালিকাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতির পদ দেওয়া হয়। তবে কেউ বলতে পারবে না আমি কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছিলাম।”

এর আগে, ২২ জানুয়ারি জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও প্রার্থী ডা. তাহেরের ছুফুয়া বাজারের এক নির্বাচনী সমাবেশে মঞ্চে উঠে বক্তব্য দিয়েছিলেন সালাহউদ্দিন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ৩ মিনিট ১০ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি বলেন, “আপনারা বুঝে-শুনে রায় দেবেন। ভালো জায়গায় ভোট দেবেন। আমি এর বেশি কিছু বলব না।” পরে তাহের নিজেই জনতাকে বলেন, “সে কী বলতে চেয়েছে, আপনারা বুঝেছেন তো?”

এ নিয়ে বিতর্ক শুরু হলে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের আমির মাহফুজুর রহমান বলেন, সালাহউদ্দিন জামায়াতে যোগ দেননি। তিনি শুধু বাড়ির পাশের সমাবেশে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গিয়েছিলেন। তার পরিবারের অনেকেই জামায়াত সংশ্লিষ্ট—এই ব্যাখ্যাও দেন তিনি।

সালাহউদ্দিন মজুমদার পরে এক বক্তব্যে বলেন, “জামায়াতের সমাবেশে আমি ভোট চেয়েছি—এমন কোনো ভিডিও কেউ দেখাতে পারবে না। আমি শুধু সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছি। বিতর্কের কোনো ভিত্তি নেই। আমি জীবনের বাকিটা সময় বিএনপিতেই থাকব।”

উল্লেখযোগ্যভাবে, সালাহউদ্দিন বর্তমানে একটি হত্যা মামলার জামিনে রয়েছেন। ২০১৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি চৌদ্দগ্রামে বাসে পেট্রলবোমা নি’\ক্ষেপে আটজন পুড়ে নি’\হত হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলার দ্বিতীয় পর্বে তিনি ১১ নম্বর আসামি এবং তার ছেলে, ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা নেয়ামত উল্লাহ ৭৯ নম্বর আসামি। গত বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ; পরে জামিনে মুক্তি পান।

বিএনপি প্রার্থী কামরুল হুদা বলেন, “সালাহউদ্দিন বিএনপির লোক ছিলেন। এক সময় তাকে দল ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল। এখন তিনি আগের ঘরে ফিরে এসেছেন, আমরা তাকে স্বাগত জানিয়েছি। রাজনীতিতে এমন ঘটনা নতুন নয়, বিতর্কের কিছু নেই।”

এই আসনে জামায়াতের ডা. তাহের ছাড়াও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আরও কয়েকজন প্রার্থী। তবে সালাহউদ্দিনের বিএনপিতে ফেরা নিয়ে এলাকায় নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ সৃষ্টি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *