একটি বিধ্বস্ত রাষ্ট্রব্যবস্থা ও ভঙ্গুর অর্থনীতিকে পুনর্গঠনের কঠিন বাস্তবতার মধ্যেই সরকারকে এগোতে হচ্ছে—এমন প্রেক্ষাপটে স্বচ্ছতা ও জনগণের কাছে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাকে নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে তুলে ধরেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (Mirza Fakhrul Islam Alamgir)।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, আমরা যেহেতু জনগণের ট্যাক্সের অর্থে পরিচালিত হই, তাই প্রতিটি পয়সার হিসাব জনগণের সামনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা আমাদের দায়িত্ব। কাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিত না করলে রাষ্ট্রের প্রতি মানুষের আস্থা ফেরানো সম্ভব নয়।
সভায় মন্ত্রণালয়ের সচিব রেজাউল মাকছুদ জাহেদী (Rezaul Maqsud Jahedi) মন্ত্রণালয়ের সার্বিক কার্যক্রমের ওপর একটি বিস্তারিত উপস্থাপনা পেশ করেন। এতে চলমান প্রকল্প, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার দিকনির্দেশনা তুলে ধরা হয়।
বিগত সরকারের কঠোর সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, গত ১৫ বছরে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো পরিকল্পিতভাবে দুর্বল ও আস্থাহীন করে ফেলা হয়েছিল। কার্যকর ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান ছাড়া কোনো উন্নয়নমুখী রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব নয়। তাই বর্তমান সরকারের প্রধান কাজ হচ্ছে এসব প্রতিষ্ঠানকে পুনরায় সচল করা এবং জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা।
প্রধানমন্ত্রীর বার্তা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি জানান, বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির টেকসই উন্নয়ন এবং কঠোরভাবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ। তার মতে, সুশাসনের ভিত্তি শক্ত না হলে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারও দীর্ঘস্থায়ী হবে না।
মন্ত্রী আরও বলেন, ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র—এই তিনটি স্তর পরস্পরের পরিপূরক। মতপার্থক্য থাকলেও একটি ‘টিম’ হিসেবে কাজ করতে পারলেই সুশাসন ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব। বিভাজন নয়, সমন্বয়ই এখন সময়ের দাবি।
গ্রামীণ বাস্তবতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, গ্রামের মানুষ বর্তমানে অনেক কষ্টে রয়েছে। তাদের এই কষ্ট লাঘব করা কোনো আবেগের বিষয় নয়; এটি রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে গ্রামীণ জীবনের মানোন্নয়নের অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন তিনি।
সভায় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম (Mir Shahe Alam) বলেন, নির্বাচনী ইশতেহার ও ঘোষিত ৩১ দফা কেবল রাজনৈতিক স্লোগান নয়; এটি জনগণের সঙ্গে সরকারের একটি ‘সামাজিক চুক্তি’। তিনি কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান, দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে এই চুক্তি বাস্তবায়নে এগিয়ে আসতে হবে।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় (Ministry of Local Government)-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং অধীনস্থ বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।


