দেশের ১৪তম গভর্নর হিসেবে মোস্তাকুর রহমান (Mostakur Rahman) দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই স্পষ্ট বার্তা দিলেন—এ মুহূর্তে কোনো কথার ফুলঝুরি নয়, অগ্রাধিকার থাকবে কাজে। দায়িত্ব গ্রহণের সূচনাতেই তিনি বুঝিয়ে দিলেন, তার নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মূল ফোকাস হবে বাস্তব কার্যক্রম ও ফলাফল।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংক (Bangladesh Bank) ভবনে প্রবেশ করেন। এ সময় তাকে অভ্যর্থনা জানান ডেপুটি গভর্নর ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। নতুন গভর্নরের আগমনকে ঘিরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ছিল স্বাভাবিক আনুষ্ঠানিকতা, তবে তার বক্তব্যে ছিল কাজের প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকারের ইঙ্গিত।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকে প্রবেশের সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের তিনি বলেন, কথায় নয়—কাজের মধ্য দিয়েই নিজের দক্ষতা ও যোগ্যতা প্রমাণ করতে চান। তার ভাষায়, “এসেছি, কাজ শুরু করি, তারপর কথা বলা যাবে।” সংক্ষিপ্ত এই বক্তব্যেই তিনি দায়িত্ব পালনের ধরন সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা দেন।
আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদানের আগে তিনি অর্থ মন্ত্রণালয় (Ministry of Finance)-এ যান। সেখানে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করে পরে তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আসেন। এর আগের দিন বুধবার বিকেলে সরকার তাকে চার বছরের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেয়।
তিনি বিদায়ী গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর (Dr. Ahsan H. Mansur)-এর স্থলাভিষিক্ত হয়ে দায়িত্ব পালন করবেন। রাষ্ট্রপতির আদেশে আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগ এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। একই সঙ্গে সাবেক গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করা হয়।
নতুন দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে শুরু হলো আরেকটি অধ্যায়—যেখানে কথার চেয়ে কাজে প্রাধান্য দেওয়ার প্রতিশ্রুতিই প্রথম দিনের প্রধান বার্তা হয়ে উঠেছে।


