এক-এগারোর ‘অবৈধ ক্ষমতা দখলকারীদের’ বিচারের দাবি শফিকুল আলমের

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম (Shafiqul Alam) অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা জেনারেল মাসুদের গ্রেপ্তারকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে ২০০৭-০৮ সালের সামরিক-সমর্থিত অন্তর্বর্তী সরকারের ‘এক-এগারো’ ঘটনাকে অবৈধ ক্ষমতা দখল বলে দাবি করে এর সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) নিজের ফেসবুক পোস্টে শফিকুল আলম লিখেছেন, অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা জেনারেল মাসুদের গ্রেপ্তার একটি তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ। ‘এক-এগারো’র ঘটনাকে তদন্তের মাধ্যমে এর মূল স্থপতিদের চিহ্নিত করে বিচারের মুখোমুখি করা প্রয়োজন। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রভাবাধীন একটি সরকার হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ওই সময় কাস্টোডিয়াল নির্যাতন, ২০০৮ সালের নির্বাচনে আসন কারচুপি, ব্যালট ডেটা ম্যানিপুলেশন এবং ৮৭ শতাংশ ভোটের মতো অবাস্তব ফলাফলের মাধ্যমে শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina)-কে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা দেওয়া হয়। এই পুরো প্রক্রিয়াকে তিনি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ধ্বংস করার একটি পরিকল্পিত পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দেন।

শফিকুল আলম তার পোস্টে আরও বলেন, সে সময় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক ‘স্বীকারোক্তি’ আদায় করে তা সংবাদপত্রে প্রকাশ করত, যা সাংবাদিকতার স্বাধীনতা এবং জনগণের আস্থাকে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তার ভাষায়, “এর ফলে ১৬ বছরের একদলীয় স্বৈরাচারী শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০৭-০৮ সাল থেকে শুরু হওয়া গুমের ঘটনা হাসিনা আমলে আরও ভয়াবহ রূপ নেয়।”

পোস্টে তিনি আরও দাবি করেন, স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচনগুলোতেও ২০০৭ সালের ডিসেম্বরে তৈরি করা একটি ‘প্লেবুক’ অনুসরণ করে কারচুপি করা হয়েছে। পাশাপাশি তিনি ২০০৭-০৮ সালের সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান এবং মঈন উদ্দীন-ফখরুদ্দীন সরকারের পেছনের পুরো ষড়যন্ত্র উন্মোচনের আহ্বান জানান।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *