ভূমি ব্যবস্থাপনায় দুর্নীতি বন্ধে কঠোর বার্তা: প্রাতিষ্ঠানিক রূপেই দমন চান প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল

ভূমি ব্যবস্থাপনায় কোনো ধরনের দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না—এমন স্পষ্ট বার্তা দিয়ে ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন (Mir Mohammad Helal Uddin) বলেছেন, দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবেই বন্ধ করতে হবে এবং দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

বৃহস্পতিবার বিকালে রাজধানীর কাটাবনে অবস্থিত ভূমি প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (Land Administration Training Centre – LATC) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত উচ্চতর ভূমি ব্যবস্থাপনা কোর্সের সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের (ইউএনও) উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা তুলে ধরেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, দক্ষ, স্বচ্ছ এবং জনবান্ধব ভূমি সেবা নিশ্চিত করতে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীল হতে হবে। কাজের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের দীর্ঘসূত্রতা বরদাশত করা হবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন। তিনি বলেন, “শুধু রুটিনমাফিক কাজ করলেই হবে না, বরং কীভাবে ভূমি সেবা আরও সহজ ও ব্যবহারবান্ধব করা যায়, সে বিষয়ে গবেষণা প্রয়োজন।”

এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ভূমি মন্ত্রণালয় (Ministry of Land)-এ একটি আধুনিক একাডেমি প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। একইসঙ্গে তিনি কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, আইনি কাজে কোনো নেতিবাচক আপস করা যাবে না এবং আইনের বাইরে যাওয়ার সুযোগ কারো নেই। কাজের পরিবেশ সুরক্ষিত রাখতে কর্মকর্তাদের জন্য ‘লিগ্যাল প্রটেকশন’ নিশ্চিত করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

অনলাইনভিত্তিক ভূমি সেবার ক্ষেত্রে বহিরাগত অপারেটরদের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাইরের ফটোস্ট্যাট দোকানে ল্যাপটপ ব্যবহার করে যত্রতত্র অনলাইন সেবা প্রদান নিরুৎসাহিত করতে হবে। এসব সংবেদনশীল কাজ কেবল নির্দিষ্ট প্রশিক্ষিত এবং পাসওয়ার্ডধারী ব্যক্তিদের মাধ্যমেই সম্পন্ন হওয়া উচিত।

ভূমি ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে ভূমি সেবা অনেকাংশে অটোমেশন ও ডিজিটালাইজেশনের আওতায় এসেছে। এই পরিবর্তনের বার্তা গ্রাম-গঞ্জে পৌঁছে দেওয়া জরুরি, যাতে সাধারণ মানুষ প্রতারণার শিকার না হন। তিনি আরও বলেন, মানুষের মধ্যে এই ধারণা তৈরি করতে হবে যে ভূমি সংক্রান্ত কাজ এখন আগের চেয়ে অনেক সহজ।

মোহাম্মদ আবুল খায়ের (Mohammad Abul Khayer), পরিচালক (যুগ্মসচিব), ভূমি প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র-এর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এ এস এম সালেহ আহমেদ (A S M Saleh Ahmed), সিনিয়র সচিব, ভূমি মন্ত্রণালয় এবং ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো: মাহমুদ হাসান। এছাড়া স্বাগত বক্তব্য দেন কোর্স পরিচালক খান এ. সবুর খান।

উল্লেখ্য, ৫ দিনব্যাপী ১৪তম ও ১৮তম উচ্চতর ভূমি ব্যবস্থাপনা কোর্সে মোট ৩৮ জন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এবং ৩৬ জন উপজেলা নির্বাহী অফিসার অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠান শেষে প্রতিমন্ত্রী প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে ক্রেস্ট ও সনদ বিতরণ করেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *