স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (Hafiz Uddin Ahmed) বীর বিক্রম ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করেছেন। তার ঘোষণায় বলা হয়েছে, আগামী ১৫ এপ্রিল (বুধবার) বেলা ১১টা পর্যন্ত সংসদের কার্যক্রম স্থগিত থাকবে।
এর আগে সকালে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনের শুরু থেকেই ছিল দ্রুত আইন প্রণয়নের গতি—অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জারি করা অধ্যাদেশগুলোকে স্থায়ী আইনে রূপান্তরের লক্ষ্যে মোট ২০টি বিল পাস করা হয়েছে। এর মধ্যে সকালের অধিবেশনেই ১০টি বিল অনুমোদন পায়।
বিলগুলোর ক্ষেত্রে কোনো দফাওয়ারি সংশোধনী প্রস্তাব উত্থাপিত হয়নি। এমনকি কোনো ধরনের বিস্তারিত আলোচনাও ছাড়াই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের প্রস্তাবের পর সর্বসম্মতিক্রমে বিলগুলো পাস হয়, যা সংসদের ভেতরে এক ধরনের দ্রুত ঐকমত্যের ইঙ্গিত দেয়।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদকালে মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। পরবর্তীতে আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গঠিত সংসদের বিশেষ কমিটি এসব অধ্যাদেশ পর্যালোচনা করে। কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, ৯৮টি অধ্যাদেশ অপরিবর্তিত রাখা এবং ১৫টি সংশোধনসহ পাস করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। এছাড়া বাকি ২০টির মধ্যে ৪টি বাতিল এবং ১৬টি অধ্যাদেশকে আরও শক্তিশালী করে নতুন বিল হিসেবে সংসদে উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় আজকের অধিবেশনে ২০টি বিল পাসের মধ্য দিয়ে প্রক্রিয়াটি এক ধাপ এগিয়েছে।
আজকের অধিবেশনে পাস হওয়া বিলগুলোর মধ্যে কয়েকটি ছিল বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান (Ahmed Azam Khan) ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করলে তা সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (Tarique Rahman)-এর পক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ (Salahuddin Ahmed) ‘মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল’ পাসের প্রস্তাব করেন, যা পরে সংসদের অনুমোদন পায়।


