ইরানেই নতুন প্রস্তাবে সন্তুষ্ট নন ট্রাম্প

ইরানের সর্বশেষ প্রস্তাব নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। শুক্রবার হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, শত্রুতা অবসানের লক্ষ্যে দেওয়া প্রস্তাবটি তাকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি। একইসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা সরাসরি বৈঠকের পরিবর্তে টেলিফোনের মাধ্যমেই পরিচালিত হচ্ছে।

ট্রাম্পের ভাষায়, ইরান এখন চুক্তির দিকে এগোতে চায়, কারণ তাদের সামরিক সক্ষমতা কার্যত ভেঙে পড়েছে। তিনি দাবি করেন, দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কাঠামোতেও গভীর বিভাজন তৈরি হয়েছে। “তাদের মধ্যে চরম মতবিরোধ রয়েছে, নেতৃত্ব কাঠামো বিশৃঙ্খল। সেখানে তিন বা চারটি ভিন্ন গোষ্ঠী সক্রিয়, যারা সবাই চুক্তি চায়, কিন্তু নিজেদের মধ্যেই ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারছে না,” বলেন তিনি।

এ সময় ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানের নেতারা নিজেরাই নিশ্চিত নন যে প্রকৃত নেতৃত্ব কার হাতে। তার মতে, এমন পরিস্থিতিতে দেশটি কার্যকরভাবে সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হচ্ছে। তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের সামরিক বাহিনী কার্যত পরাজিত এবং বর্তমান অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়াতে তাদের দীর্ঘ সময় লেগে যেতে পারে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২৬ সালের ১ মার্চ তেহরান (Tehran)-এ বিস্ফোরণের ঘটনার পর শহরের আকাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়, যা পরিস্থিতির তীব্রতাকে আরও স্পষ্ট করে তোলে।

পাকিস্তানের ভূমিকা প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, দেশটির প্রতি তার ব্যক্তিগত শ্রদ্ধা থাকলেও ইরানের সঙ্গে কোনো কার্যকর চুক্তি সম্পাদনে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তাদের সক্ষমতা নিয়ে তিনি নিশ্চিত নন। “তারা আদৌ সেই লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে কি না, তা নিয়ে আমার সন্দেহ রয়েছে,” মন্তব্য করেন তিনি।

একজন সাংবাদিক যখন সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, তখন ট্রাম্প সরাসরি উত্তর না দিয়ে পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন—“আমি কেন আপনাদের সেটা জানাতে যাব?”—যা পরিস্থিতির অনিশ্চয়তাকে আরও বাড়িয়ে দেয়।

চীন সফর নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন ট্রাম্প। তিনি জানান, তার আসন্ন চীন (China) সফর “অসাধারণ” হতে যাচ্ছে এবং সেখানে তিনি প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

এদিকে, ইরানের সঙ্গে সংঘাতের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র মজুদ কমে আসছে—এমন খবরও উড়িয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, এই বিষয়টি তাকে মোটেও উদ্বিগ্ন করছে না।

দিনের শুরুতে, ‘দ্য জেরুজালেম পোস্ট (The Jerusalem Post)’-এর প্রশ্নের জবাবে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি চলমান আলোচনার বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। তার ভাষায়, “গোপন কূটনৈতিক আলোচনার বিস্তারিত প্রকাশ করা হয় না।” তবে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান স্পষ্ট—ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না।

অন্যদিকে, ইরনা (IRNA) জানিয়েছে, ইরান তাদের সর্বশেষ প্রস্তাব পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠিয়েছে। এই প্রস্তাবকে কেন্দ্র করেই এখন দুই দেশের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চলছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *