ড. মুহাম্মাদ ইউনূস-মোদির বৈঠক নিয়ে ভারতীয় মিডিয়ায় বিতর্কিত প্রতিবেদন

বৈঠকের প্রেক্ষাপট ও আলোচনা

ড. মুহাম্মাদ ইউনূস (Muhammad Yunus) ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) সম্প্রতি ব্যাংককে বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন। তবে এই বৈঠক নিয়ে ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে যেভাবে সংবাদ পরিবেশিত হয়েছে, তা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

ভারতের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা তাদের প্রতিবেদনের শিরোনামে লেখে: ‘মিষ্টি ভাষায় কড়া বার্তা ইউনুসকে, বৈঠকে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টাকে কী বললেন মোদী?’। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ভারতবিরোধী অবস্থান থেকে সরে এসে ইউনূস মোদির সঙ্গে সাক্ষাতের আগ্রহ প্রকাশ করেন। এই সাক্ষাৎ বাস্তবায়িত হয় ব্যাংককে বিমসটেক সম্মেলনের সাইডলাইনে।

ড. ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম (Shafiqul Alam) জানান, বৈঠকটি ফলপ্রসূ হয়েছে এবং পারস্পরিক স্বার্থ-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এমনকি বৈঠকে শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina) সম্পর্কিত বিষয়ও আলোচনা হয়েছে বলে তার দাবি।

ভারতীয় পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিক্রিয়া

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, প্রধানমন্ত্রী মোদি বৈঠকে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের প্রতি ভারতের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন এবং বিশেষভাবে সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বাংলাদেশ সরকারকে এসব বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানান।

বৈঠকের পেছনের প্রেক্ষাপট ও চীন প্রসঙ্গ

সংবাদ প্রতিদিন আরও একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে যার শিরোনাম ছিল: ‘বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন থেকে চৈনিক চাল, সম্পর্কে শৈত্যের মাঝেই বৈঠকে মোদি-ইউনুস’। তারা দাবি করে, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এই প্রথম মোদি-ইউনুস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ইউনূসের চীন ঘনিষ্ঠতার প্রসঙ্গও এতে উঠে আসে। বলা হয়, ইউনূস চীন সফরে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন।

হিন্দুস্তান টাইমস ইংরেজি সংস্করণ তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করে: ‘ইউনুসের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশে হিন্দুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি’

অন্যদিকে, এনডিটিভি তাদের প্রতিবেদনের শিরোনাম দেয়: ‘যে কোনো উসকানিমূলক বক্তব্য…”: উত্তর-পূর্ব মন্তব্যের পর বাংলাদেশের নেতার উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা’

এনডিটিভির খবরে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিস্রির বক্তব্য উদ্ধৃত করা হয়। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদি বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, বিশেষ করে হিন্দুদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং প্রত্যাশা করেন, বাংলাদেশ সরকার এই বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেবে। এছাড়া, তিনি সকল নির্যাতনের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন।

বাংলাদেশের অনুরোধে অনুষ্ঠিত বৈঠক

হিন্দুস্তান টাইমস প্রতিবেদনে আরও দাবি করেছে, এই বৈঠকের অনুরোধ বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকেই করা হয়েছিল। তবে ভারত সরকার প্রথমে স্পষ্ট কোনো জবাব দেয়নি, ফলে বিষয়টি অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *