নেত্রকোনা-৩ (কেন্দুয়া-আটপাড়া) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী খায়রুল কবির নিয়োগীর উপস্থিতিতে প্রতিপক্ষের তথা বিএনপি সমর্থকদের গলা কেটে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। প্রার্থীর ভাতিজার দেওয়া এই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিকমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
তবে, এ ঘটনার জন্য জামায়াত প্রার্থী দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, হুমকিদাতা যুবক তার দলের কেউ নয়! এ ঘটনার জন্য তিনি তার ভাতিজাকে শাসিয়েছেন।
ভিডিওটি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, হুমকিদাতা প্রার্থীর ভাতিজা জাকারিয়া নিয়োগী। তিনি কিশোরগঞ্জের গুরুদয়াল সরকারি কলেজের খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসাবে কর্মরত।
বৃহস্পতিবার কেন্দুয়া উপজেলার বঙ্গবাজারে জামায়াত প্রার্থীর একটি প্রতিবাদ সমাবেশে দেওয়া একটি ভিডিওতে জাকারিয়া নিয়োগীকে বলতে শোনা যায় ‘… খুঁজে বের করতে হবে, আর আপনারা আজ থেকেই চিন্তা করেন, ভবিষ্যতে যদি একটা কণ্ঠ উচ্চারিত হয়, গলা কাইট্টা ফেলা হবে। আমার চাচার দিকে আঙুল তুললে হাত কেটে নেওয়া হবে। …’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত জাকারিয়া নিয়োগীর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে এ ব্যাপারে জামায়াত প্রার্থী খায়রুল নিয়োগী বলেন, ‘সে (জাকারিয়া নিয়োগী) আবেগের বশবর্তী হয়ে এই মন্তব্য করেছে। তার এমন মন্তব্য করা ঠিক হয়নি। সে দলের কেউ নয়। তাকে শাসিয়েছি। এ জন্য আমি বিভিন্ন জায়গায় দুঃখ প্রকাশ করেছি।’
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান ভূঁইয়া মজনু বলেন, ‘১০ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের কয়েকজন নেতাকর্মী বিএনপিতে যোগদান করায় ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি এসএম সালেহীন রাজনের ভাই এবং আওয়ামী লীগ নেতা শেখ নাজমুল হকের ভাই-ভাতিজারা ক্ষিপ্ত হয়ে ১১ জানুয়ারি আমাদের এক কর্মীর ওপর হামলা চালায়। অটোরিকশা ভাঙচুর, মারধর ও টাকা লুট করা হয়। এখন সেই ঘটনা আড়াল করতেই মিথ্যা অভিযোগ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি জামায়াতের নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে আমাদের নেতাকর্মীদের গলা কেটে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং হুমকিদাতাকে দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান তিনি।
কেন্দুয়া থানার ওসি মেহেদী মাকসুদ বলেন, দুই পক্ষের কাছ থেকেই লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। গলা কেটে ফেলার হুমকির ভিডিওটি আমাদের কাছে এসেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।


